Story
সুগন্ধি ধান আর সুগন্ধি চাল বলতেই মাথায় আসে একটি প্রজাতির নাম- গোবিন্দ ভোগ। অথচ এই বাংলায় গোবিন্দভোগ বাদেও আরও নানান ধরনের সুগন্ধি চাল হয়। কজন জানেন সেই সুগন্ধি চালগুলোর নাম। বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের গবেষণায় বাংলাতে আবার ফিরিয়ে দিচ্ছে অতীত ও ঐতিহ্য রাধা তিলক, হরিণাখুরি, কালোজিরার মত নানান প্রজাতির সুগন্ধি ধান। আর বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দৌলতে আজ সেই সুগন্ধি ধানই আবারও ফলাচ্ছেন নদিয়ার কৃষকরা। যার ফলে ঐতিহ্য বজায় তো রয়েছেই, একইসঙ্গে আর্থিকভাবে লাভবানও হচ্ছেন তাঁরা।
দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় সুগন্ধি ধানের মধ্যে অন্যতম হল এই গোবিন্দভোগ, রাধাতিলক, রাধুনিপাগল, কালোজিরা, লাল বাদশা ভোগের মত ধান। যে ধানগুলোকে কোনভাবেই হারিয়ে ফেলতে চান না কৃষিবিশ্ববিদ্যালয়য়ের অধ্যাপকেরা। তাই এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই ধানগুলিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য রীতিমত গবেষণা করছেন তাঁরা। অবশেষে তাঁদের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। আজ সুগন্ধি ধান চাষ হচ্ছে রমরমিয়ে। কিন্তু কিভাবে হচ্ছে এই ধানচাষ? শুনে নেওয়া যাক বিজ্ঞানী এবং অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় ঘোষের মুখ থেকেই।
সার ব্যবস্থাপনা পুরোটাই জৈব নির্ভর। প্রথম চাষের সময় মূল জমিতে সার দেওয়ার ক্ষেত্রে এক হেক্টর প্রতি চার থেকে পাঁচ টন গোবর সার বা খামারের পচা সার মূল চাষের সময় জমিতে ভালো করে মিশিয়ে দিতে হয়। এরপর চারা রোপন করার তিন সপ্তাহ পরে প্রথম নিড়ানি করার পর হেক্টর প্রতি ১ টন কেচো সার ব্যবহার করা যেতে পারে। ছয় সপ্তাহ পর দ্বিতীয় নিড়ানি করে দুই থেকে আড়াই কুইন্টাল সরষের খোল দেওয়া যেতে পারে। এছাড়াও যদি কোন সময় রোগ পোকার আক্রমণ হয় সেটা দমন করার জন্যই জৈব উপায় করতে হবে। কিভাবে করতে হয় সেটাও জানালেন অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় ঘোষ।
শস্যবিজ্ঞানীদের এই গবেষণার ফল হাতেনাতে পাচ্ছেন কৃষকেরা। বিজ্ঞানীদের পরামর্শ মেনে আর্থিকভাবেও তাঁরা যথেষ্ট লাভবান হচ্ছেন। ফলে সুগন্ধি ধান ফলানোর দিকেও তাঁদের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
সুগন্ধি ধানের বীজ জৈব উপায়ে যেমন তৈরি হচ্ছে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তেমনই পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতেও প্রযুক্তির সহায়তায় এই বীজ তৈরি করা হয়। আর এই জৈব বীজ প্রতিবছর দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার কৃষকদের কাছে সরবরাহ করা হয়। যা চাষ করেই কৃষকেরা বর্তমানে যথেষ্ট লাভবান হচ্ছেন। একইসঙ্গে রক্ষা করছেন বাংলার চাষাবাদের ঐতিহ্য।
রনি চ্যাটার্জী, নদিয়া