Story
ধান্যকুড়িয়ার সঙ্গে রাজ্যবাসীর কমবেশি প্রত্যেকেরই পরিচয় আছে। কিন্তু কজন জানেন যে এখানেই চিরাচরিত কৃষিকাজ থেকে সরে এসে একেবারে শীতের দেশের ফল চাষ হচ্ছে? পাকিস্তানের মুসুম্বি লেবু হোক বা হরিমন ৯৯ আপেল অথবা চাইনিজ কমলা যার পোশাকি নাম ড্রাগন ফ্রুট। আর এই চাষ করেই সাফল্য পাবেন বলে আশাবাদী কৃষক মিঠুন আলী বিশ্বাস। যিনি তাঁর নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে লাগানো দীর্ঘদিনের দুই বিঘে আমবাগান কেটে এখন বিভিন্ন ধরণের বিদেশি ফল চাষে মজেছেন।
পরামর্শ থেকে টেকনিক্যাল সাপোর্ট সবটাই মিঠুন আলী বিশ্বাসকে জুগিয়ে যাচ্ছেন বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের কৃষি দপ্তর। যেহেতু এই পদ্ধতিতে চাষের সঙ্গে এখানকার কৃষকেরা একেবারেই পরিচিত নন, তাই জমি তৈরি থেকে চারা রোপণ এমনকি জমির ফসলের পরিচর্যা সমস্তটাই রয়েছে কৃষি দফতরের নজরে। আতমা প্রকল্পের মাধ্যমে এই অচিরাচরিত ফলের চাষ হচ্ছে। কিন্তু বসিরহাট তো গ্রীষ্মপ্রধান এলাকা। এই এলাকায় চিরাচরিত পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে কি আদৌ বিদেশি ফল চাষ করা সম্ভব হচ্ছে? জানালেন বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের অ্যাসিস্ট্যান্ট টেকনোলজি ম্যানেজার রাজু মণ্ডল।
তাপমাত্রা যদি সাধারণের থেকেও অনেকটা নেমে যায়, সেক্ষেত্রেও এই গাছগুলোর কোনরকম ক্ষতি হবে না। এমনকি ১৩ ডিগ্রি বা ১৮ ডিগ্রি তাপমাত্রাতেও এই গাছগুলো বেঁচে থাকবে। ফুল, ফল দেবে। কিন্তু বিদেশি ফল চাষ করতে গেলে তার জন্য রয়েছে নিজস্ব কৃষি পদ্ধতি। যা কৃষি দপ্তরের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব হত না।
প্রথম বছর এখানে পরীক্ষামূলকভাবে দুই বিঘা জমিতে পাকিস্তানের মুসুম্বি লেবু বা হরিমন ৯৯ আপেলের মত বিদেশি ফলের চাষ করা হচ্ছে। কৃষক মিঠুন আলী বিশ্বাস এই ধরণের নতুন চাষ নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী। কৃষি দপ্তরের সহায়তা পেয়ে আজ তিনি এই ধরণের বিদেশি ফল চাষ করতে সাহস দেখিয়েছেন।
এই গাছগুলোর আয়ু সাধারণত ৪০-৪৫ বছর। এদিকে চাষের খরচও যেমন অনেকটা কম তেমনই লাভের পরিমাণও অনেকটাই বেশি। অর্থাৎ কম খরচে অধিক উপার্জনের পথ খুঁজে পেলেন মিঠুন আলী বিশ্বাস। লাভের দিক থেকেও তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।
ইতিমধ্যেই মিঠুন আলী বিশ্বাসের জমিতে ভিড় জমাচ্ছেন এলাকার অন্যান্য কৃষকরা। তাঁরা আসছেন, দেখছেন, জানছেন। তাঁদের মধ্যেও তৈরি হচ্ছে আগ্রহ। এই যেমন কামরুল মণ্ডল। তিনিও আপেল চাষ করতে ইচ্ছুক।
এই এলাকায় আমের চাষ এমনিই হয়। কিন্তু আম গাছ প্রতিবারই যে ফল দেবে এমন নয়। তাই লোকসানের ভয় থেকেই যায়। কিন্তু ছক ভাঙা চাষ করে মিঠুন আলী আর্থিক স্বচ্ছলতা পাবেন নিশ্চিত। কারণ এক একটা গাছ থেকে প্রতি বছর ৫-৭০০০ হাজার টাকার ফল পাওয়া সম্ভব। সুতরাং আতমা প্রকল্পের মাধ্যমে যে এতোগুলো গাছ লাগানো হয়েছে তার ফল বিক্রি করলে মিঠুন আলীর অর্থনৈতিক দিকটা অনেকটাই মজবুত হবে।
দেবস্মিতা মণ্ডল, উত্তর ২৪ পরগনা