Story
ছুটছে গ্রাফ, বাড়ছে দাম। ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির ঘেরাটোপে কার্যত বিধ্বস্ত কর্মক্ষেত্র থেকে কৃষি। এভাবে ডিজেলের দাম বাড়তে থাকলে কৃষি জমিতে জলসেচ হবে কিভাবে? রীতিমত চিন্তায় যখন ঘুম উড়েছে চাষি ভাইদের, ঠিক তখনই ফারিস্তা হয়ে এসেছে সোলার সিস্টেম। যা জলসেচের জন্য অভিনব তো বটেই সাথে অত্যাধুনিকও।
জমিতে সোলার সিস্টেমের সাহায্যে জলের পাম্প বসিয়ে চুটিয়ে চাষাবাদ করছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গোবরডাঙ্গার ইছাপুরের ভোলানাথ পাল। কেন সোলার সিস্টেমকেই বেছে নিলেন তিনি? শুনুন ওনার নিজের মুখেই।
ডিজেলের তুলনায় খরচ প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। শুধু তাই নয়, রয়েছে সরকারি সুবিধেও। কৃষকের ইনভেস্টমেন্ট মাত্র ১০%। বাকি ৯০% আসছে সরকারি সহযোগিতা থেকে। এক্ষেত্রে এই চাষি ভাইয়ের পাশে ছিলেন গোবরডাঙ্গার সেবা ফার্মাস এনজিও।
সবচেয়ে স্বস্তির ব্যাপার হল, ইনভেস্টমেন্ট করতে হবে মাত্র একবার। পাম্প সার্ভিস দেবে অন্ততপক্ষে ২০-২৫ বছর। কাজেই লাভের পরিমাণ যে বেশ চড়া তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সার্ফের সাহায্যে বছরে দুবার শুধু প্লেটগুলোকে পরিষ্কার করে নিতে হবে, ব্যস এটুকুই।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পরোয়া না করে অবিলম্বে সোলার পাওয়ারের মাধ্যমে কৃষকদের কৃষি কাজ শুরু করার আহ্বান জানালেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অশোকনগর কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের কৃষি বিজ্ঞানী সোমা গিরি। সমস্ত রকম সহযোগিতা করে স্থানীয় কৃষি দপ্তর।
অভিনবভাবে সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে জলসেচ করে খুশি এই চাষিভাই। কম সময়ে, কম খরচে বেশি জমিতে জলসেচ করা সম্ভব এই পদ্ধতিতে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ সরিয়ে রীতিমত লক্ষ্মী লাভের দিকটাও সুনিশ্চিত করছে এই সোলার পাওয়ারের ব্যবহার।
দেবস্মিতা মণ্ডল, উত্তর ২৪ পরগনা