Story
লাভ ক্ষতির অঙ্কটা সবসময়ই চিন্তায় রাখে কৃষকদের। ফলন হলেই যে আর্থিক দিক থেকে লাভবান হবেন, এমন কোন কথা নেই। অনেকসময়ই চেনা লাভের অঙ্কটা ক্ষতির দিকে ঘুরে যায়। তখন দিশেহারা অবস্থা হয় কৃষকের। কিন্তু যদি কৃষককে শুধু একটি ফলনের ওপরেই নির্ভর না করে থাকতে হয় তাহলে ক্ষতির অঙ্কটা তেমন একটা ভয় ধরাতে পারেনা।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গাইঘাটা ব্লকের কৃষক প্রভাস রায়ের সঙ্গেও খানিকটা এমনই হয়েছিল। পেশায় ট্যাক্স কনসালটেন্ট হলেও চাষবাস তাঁর কাছে নেশার মত। কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনিও মুরগি চাষ করতে গিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েন। কিন্তু সেই ক্ষতি পূরণ করার জন্য হাল না ছেড়ে শুরু করলেন ইন্টিগ্রেটেড ফার্মিং।
প্রভাস রায়ের জমি রয়েছে চার বিঘা। তার মধ্যে কেটেছেন পুকুর। সেখানে চাষ হচ্ছে মাছ। সঙ্গে হাঁস পালন। পুকুরপাড়ে চাষ হচ্ছে ড্রাগন ফ্রুটের মত বেশ কিছু ফল। এছাড়া রয়েছে আপেল, আঙুর, করমচা, চেরি, মালবেরি, আমলকির মত বিভিন্ন প্রচলিত এবং অপ্রচলিত ফল। একইসঙ্গে আবার পুরনো মুরগির ফার্মে পালন করা হচ্ছে বাংলার কালো ছাগল, দেশি মুরগি।
পুরনো পদ্ধতিতে মুরগি পালন করে যখন ক্ষতির মুখে পড়েন প্রভাসবাবু, তখন প্রাথমিক পর্যায়ে কৃষিকাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে আনার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু পাশে দাঁড়াল অশোকগর কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র। ইন্টিগ্রেটেড ফার্ম করার প্রশিক্ষণ একেবারে হাতে কলমে দেওয়ায় এখন প্রভাসবাবু লাভের অঙ্ক গুণতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। একইভাবে দিশা দেখিয়েছেন বাংলার বেকার যুবক-যুবতীদের।
বর্তমানে ইন্টিগ্রেটেড ফার্ম করে প্রভাসবাবু বেশ খুশি। কারণ ক্ষতি পূরণের রাস্তা যেমন অনেকটা সোজা হয়ে গিয়েছে তেমনই খুলে গেছে লক্ষাধিক টাকা আয়ের দরজাও।
যে কৃষকের মাথায় একটা সময় ক্ষতির বোঝা বেড়ে যাচ্ছিল তাঁর কাছে এখন মাসে লক্ষ টাকা রোজগার করা কোন ব্যপার নয়। তাই ইন্টিগ্রেটেড ফার্ম করতে উৎসাহ দেখাচ্ছেন অন্যান্য চাষিরা। তাঁরা পৌঁছে যান প্রভাসবাবুর এই কর্মযজ্ঞে।
অতিমারিতে চাকরি খুইয়ে বেকার হয়েছেন প্রচুর মানুষ। হতাশাও ঘিরে ধরেছে তাঁদের। তাই কৃষি দফতর প্রভাসবাবুর সাফল্যকে হাতিয়ার করে বেকার মানুষদের ইন্টিগ্রেটেড ফার্ম করার উৎসাহ দিচ্ছে। ইতিমধ্যে আবার অনেকেই পশুপালনকে ঘিরে প্রাণীসম্পদের ব্যবসা শুরু করেছেন।
দক্ষিণবঙ্গের গরম আবহাওয়ায় এবং এই মাটিতেও যে আপেল, আঙুরের মত ফল চাষ করা সম্ভব, তা প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়েছেন প্রভাসবাবু। একইসঙ্গে কম জায়গার মধ্যে এত কিছু চাষ করেও যে লাভের মুখ দেখা যায় সেই নজিরও গড়েছেন তিনি।
দেবস্মিতা মন্ডল, উত্তর ২৪ পরগনা