Story
ল্যাপটপের পর্দায় ভেসে উঠছে একের পর এক প্রোগ্রামিং। পাশে রয়েছে জাভা, ইঞ্জিয়ারিং ইকোনমিকসের মত অসংখ্য বই। দুচোখে তার স্বপ্ন বিটেক পাশ করে কোন ভালো জায়গায় চাকরির জন্য আবেদন পত্র পাঠানোর। কিন্তু করোনার প্রথম ঢেউ সেই স্বপ্নেও ভাঙন ধরায়। বাবার মুদি দোকান ১০ বছরের ওপর বন্ধ। দাদার স্যালারি অতিমারিতে হয়েছে অর্ধেক। আগে বাঁচা, তারপর পড়াশুনো। তাই শত কটুক্তিকে পাত্তা না দিয়ে বিটেক ছাত্রী জ্যোতির্ময়ী সাহা বন্ধ মুদির দোকানকেই বানিয়ে ফেলল আস্ত একটা ফুচকার দোকানে। নাম দিল ফুচকাওয়ালা। যেখানে ফুচকার টানে ছুটে আসছেন ফুচকাপ্রেমীরা।
টিটাগর পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকনগরের বাসিন্দা জ্যোতির্ময়ী সাহা। মধ্যবিত্তের টানাটানির সংসার জ্যোতির্ময়ীদের। বিপদ শিয়রে এসে উপস্থিত হওয়ায় সংসার কিভাবে চালাবে সেটাই বুঝে উঠতে পারছিল না কলেজ পড়ুয়া জ্যোতির্ময়ী। ইতিমধ্যে দোকান বিক্রির কথাও ভাবা হয়। কিন্তু জ্যোতির্ময়ী স্রোতের বিপরীতে হাঁটার চেষ্টা করল।
ফুচকা ভালোবাসে না এমন বাঙালি বিরল। কিন্তু জলভরা ফুচকা তো সবাই বিক্রি করে। তাহলে আর লোকে ফুচকাওয়ালায় আসবে কেন? তাই নিত্য নতুন ভিন্ন স্বাদের ফুচকা দিয়ে শুরু হল ফুচকাওয়ালার সফর। এখানে শুধু জলভরা ফুচকাই পাওয়া যায় না। সাত ধরণের ফুচকার ভ্যারাইটি রেখেছে জ্যোতির্ময়ী।
ফুচকা খেতে সবাই ভালোবাসেন। কিন্তু উচ্চশিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি ঘরের মেয়ে ফুচকা বিক্রি করবে? অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছিলেন। কটু কথাও বলেছেন। কিন্তু পাশে দাঁড়াননি কেউ। অবশেষে মা সুশীলা সাহার অনুপ্রেরণায় এবং দাদা দেবজ্যোতি সাহার সহযোগিতায় গত অক্টোবর থেকে চালু হল ফুচকাওয়ালার যাত্রা।
দোকানের মধ্যেই জ্বলছে রঙ বেরঙের আলো। একেবারে হালফ্যাশানে মোড়া ফুচকাপ্রেমিদের নতুন সেনসেশন জ্যোতির্ময়ীর ফুচকাওয়ালা। আট মাসের এই জার্নির কাছে হার মানল সংসারের করুণ পরিস্থিতি ও ইঞ্জিনিয়ারিং এর পড়াশোনা বন্ধের সিদ্ধান্ত। হার মানল দাদা ও বোনের অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে। এখন তাদের লক্ষ্য খড়দহ স্টেশন রোডের ফুচকাওয়ালাকেই সঙ্গী করে পূরণ করবে তাদের স্বপ্ন। ততদিনে ফুচকাওয়ালাও পৌঁছে যাবে প্রত্যেক ফুচকাপ্রেমিদের কাছে।
বিক্রম লাহা, ব্যারাকপুর