Trending

বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান। এইবারে তোমার বধিব পরাণ। রেখা পাত্রের সন্দেশখালিতে ফের পৌঁছল ইডির নোটিশ। এবার তৃতীয়বারের জন্য। রেশন দুর্নীতি এবং জমি জবরদখল মামলায় তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানকে আগেই গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা ইডি। আর এবার সেই শেখ শাহজাহানের ভাই, জামাইসহ ড্রাইভারকে তৃতীয়বারের জন্য তলব করা হল সিজিও কমপ্লেক্সে। কেন বারবার ইডির তলব এড়িয়ে চলছিল শাহজাহান ঘনিষ্ঠেরা? জানব বিস্তারিত।
বারবার ইডির তলব এড়িয়ে চলা যে মোটেই সহজ হবে না, তা জানা সত্ত্বেও সেই তলব এড়িয়েই চলছিলেন শেখ শাহজাহানাএর জামাই এবং গাড়ির চালক। তাই এবার কড়া হাতে রাশ টানার ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আগামী বৃহস্পতি এবং শুক্রবার সিজিও কমপ্লেক্সে ডাক পড়েছে শাহজাহান ঘনিষ্ঠ এই তিনজনের। আর বার যদি সেই তলব কোন না কোন অজুহাতে এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তারা নেন, সেক্ষেত্রে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ইডি কর্মকর্তারা।
নারী নির্যাতন, রেশন দুর্নীতি এবং জমি জবরদখল মামলায় নাম উঠে আসে সন্দেশখালির বেতাজ বাদশা শেখ শাহজাহানের। যে খবর সামনে আসতেই সেখানে হানা দেন ইডি কর্মকর্তারা। কিন্তু তাদের উপর আক্রমনের জেরে ফিরে আসতে হয় তাদের। এরপর শুরু হয় তদন্ত। সন্দেশখালির প্রতিবাদী মুখ হিসেবে সামনে এগিয়ে আসেন রেখা পাত্র। যাকে নিয়ে চর্চা চরমে পৌঁছয়। আর সেই চর্চা এতটাই প্রভাব ফেলেছিল যে বিগত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি তাঁকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করায়। আর আজ আরও একবার শেখ শাহজাহান প্রসঙ্গে আরও একবার সরগরম রেখা পাত্রের সন্দেশখালি।
শেখ শাহজাহানের এক ভাই আলমগিরকে আগেই অ্যারেস্ট করেছে ইডি। খোঁজ জারি আরও এক ভাইয়ের। বারবার তলব করা সত্ত্বেও তিনি বেপাত্তা। মনে করা হচ্ছে, তদন্ত থেকে গা বাঁচাতেই পালিয়ে বেড়াচ্ছে সন্দেশখালির বেতাজ বাদশার আরেক ভাই শেখ সিরাজউদ্দিন। তবে, বারে বারে ঘুঘু যে ধান খেয়ে পালাতে পারবে না, সেকথা স্পষ্ট ইডির ইঙ্গিতে। এদিকে আগামী বৃহস্পতি বা শুক্রবারের মধ্যে যদি সিজিও কমপ্লেক্সে তাদের দেখা না যায়, সেক্ষেত্রে কড়া কোন পদক্ষেপ নিতে ইডি কর্মকর্তারা যে দুবার ভাববেন না- সেটা বলাই যায়।
এর আগে বাই পোস্ট তাদের কাছে ইডির নোটিশ যায়। কিন্তু সেই নোটিশ পেয়েও দেমাগে গা বাঁচিয়ে ঘুরে বেরাচ্ছেন সন্দেশখালির ত্রাসের আরেক ভাই শেখ সিরাজউদ্দিন। ইডির স্ক্যানারে এখন নতুন মুখ। তলব করা হয়েছে ড্রাইভার এবং জামাইকে। সূত্রের খবর, রেশন দুর্নীতি এবং জমি ভেড়ি জবরদখল সংক্রান্ত মামলায় অভিযোগের জেরে উঠে এসেছে এই তিনজনের নাম। আর সেই সংক্রান্ত মামলার খোঁজ পেতেই কিছু জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন এই তিনজনকে। তাই তলব। তবে বারবার কেন গা বাঁচিয়ে ইডির তলব এড়িয়ে চলেছেন তারা? তাহলে কী সত্যিই তারা অভিযুক্ত? সেই প্রশ্ন কিন্তু দানা বাঁধছে আনান মহলে।
প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালির সরবেড়িয়ায় বেতাজ বাদশার বাড়িতে যান ইডি আধিকারিকরা। সন্দেশখালির ত্রাসের দুটি নম্বরেই ফোন করেন তারা। দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যস্ত থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ওঠা সম্ভব হয়নি। যদিও শেষ পর্যন্ত একটি নম্বরে ফোন লাগে। তবে ইডি-র নাম শুনতেই ফোন কেটে দেন শেখ শাহজাহান। আর তারপরেই স্থানীয় শাহজাহান বাহিনী ইডি আধিকারিকদের ওপর হামলা চালায়। যদিও শেষমেশ সন্দেশখালির বাঘকে খাঁচাবন্দী করতে সমর্থ হন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। কিন্তু এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভোট পূর্ববর্তী রাজনীতি। তবে শুধু ভোট পূর্ববর্তী ক্ষেত্রেই নয়। রেখা পাত্রের সন্দেশখালি প্রসঙ্গ ভোট পরবর্তী সময়েও রাজ্য-রাজনীতির অন্যতম চর্চিত প্রসঙ্গ।
এখন সূত্রের কিনারা খুঁজতে কী পদক্ষেপ নেন ইডি আধিকারিকরা আর কান টানলে সত্যিই মাথার খোঁজ পাওয়া যায় কিনা- সেটাই দেখার। সঙ্গে থাকুন দেখতে থাকুন বিজনেস প্রাইম নিউজ। জীবন হোক অর্থবহ।