Story
হিমালয়ের কোলে অবস্থিত ছোট্ট একটি দেশ নেপাল। ভারতের ঠিক উত্তর-পূর্বে অবস্থিত হিন্দু প্রধান এই দেশটির অভ্যন্তরে এতদিন পর্যন্ত তেমন কোন টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি না হলেও এখন দেখা দিয়েছে আর্থিক অনিশ্চয়তার আভাস। আমরা সকলেই জানি, চরম অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি পড়তে হয়েছে ভারতের একেবারে দক্ষিণে অবস্থিত প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কাকে। সেখানকার বর্তমান যা অবস্থা তাতে আন্তর্জাতিক ঋণ পরিশোধ করা দেশটার পক্ষে অসম্ভব। ১৯৪৮ সালে শ্রীলঙ্কা স্বাধীন হওয়ার পর এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি কোনদিন পড়তে হয়নি। কিন্তু এখন সেই শ্রীলঙ্কাই ভয়াবহ আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত। তাহলে কি এবার শ্রীলঙ্কার সেই আঁচ এসে লাগতে চলেছে নেপালের গায়ে?
ভারতের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এই ছোট্ট দেশটির পর্যটন ব্যবসাকে সমৃদ্ধ করে আসছে হিমালয়। যে কারণে নেপালের পর্যটন ব্যবসাই নেপালের অর্থনীতির হাতটা খুব ভালোভাবে ধরতে পেরেছে। একটি সমীক্ষা থেকে জানা যায়, নেপালের পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ। তাই নেপালের পর্যটন ব্যবসাকে সবসময়ই চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করে সেই দেশের সরকার। কিন্তু শোনা যাচ্ছে, পর্যটন ব্যবসাতে মার খেয়েছে নেপাল। এমনিতেই করোনার প্রকোপ যখন গোটা বিশ্বে কাঁপুনি ধরিয়েছিল, তখন নেপালের পর্যটন ব্যবসার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। বিদেশিদের পা পড়া একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় পর্যটন ব্যবসাকে ঘিরে। তারপর অবশ্য করোনার চোখ রাঙানি কমে এলে ফের পর্যটন ব্যবসাকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করে নেপাল সরকার। কিন্তু ধাক্কা সেখানেও।
আর শুধু পর্যটন ব্যবসাই নয়। একইসঙ্গে কমে আসছে বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণও। যে কারণে আর্থিক দৈন্যতা নেপালের গায়ে এসে লাগতে শুরু করে দিয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার ভাঁড়ারে টান পড়ার অন্যতম কারণ আমদানি বৃদ্ধি। অর্থাৎ, একদিকে নেমেছে আমদানির ঢল অন্যদিকে রফতানি বাণিজ্যে ভালোরকম ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যে কারণে ২০২১ সাল থেকেই একনাগাড়ে অল্প অল্প করে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি দেখা যেতে শুরু করে নেপালে। সেই দেশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ২০২১ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত যেখানে বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ ছিল ১১.৫ বিলিয়ন ডলার। এখন সেটাই কমে দাঁড়িয়েছে ৯.৭৫ বিলিয়ন ডলারে। আর সেখানেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে তাহলে কি নেপালের অবস্থাও শ্রীলঙ্কার মত শোচনীয় হতে চলেছে?
এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করলে নেপালের সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শ্রীলঙ্কার মতন অবস্থা নেপালে তৈরি হওয়ার মত কোন জায়গা নেই। বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ কমার অন্য আরেকটি কারণ হল যে সকল নেপালিরা বিদেশে থাকেন। তাঁরাও বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হবে পর্বতময় এই দেশটিকে। দেশটিকে আর্থিকভাবে যাতে বড়সড় কোন বিপর্যয়ের মুখে না পড়তে হয়, সেই কারণে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে নেপাল সরকার। আমদানি বৃদ্ধিতে টেনেছে রাশ। এই রাশ টানা হয়েছে সোনা, গাড়ি কিংবা কসমেটিক্স দ্রব্যের মত বিলাসি পণ্যের উপরে। মনে করা হচ্ছে, আপাতত যদি বিলাসি পণ্যের আমদানির উপরে লাগাম টানা যায় তাহলে সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে নেপাল।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ