Daily
মানস আদকের সঙ্গে নবাব মল্লিকের রিপোর্ট: রাত পোহালেই রাজ্যে বিধানসভা ভোট। ভোটের দ্বিতীয় পর্যায়ে চারটি জেলার ৩০ আসনে মোট ১৭১ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হতে চলেছে। এবারের ভোটে এই ১৭১ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৫২ জন পুরুষ ও ১৯ জন মহিলা প্রার্থীও রয়েছেন। অবাঞ্ছিত ঘটনা এড়াতে দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন বরাদ্দ করেছে ৮০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এর মধ্যে হাই প্রোফাইল কেন্দ্র নন্দীগ্রামের জন্যই থাকছে ২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। যথারীতি গুরুত্ব দিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলায় বিগত দিনের ভোটগুলিতে হিংসার কথা মাথায় রেখে জেলার চার আসনে প্রথম পর্যায়ের ভোটে ১৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করল নির্বাচন কমিশন। বাঁকুড়া, দুই মেদিনীপুর সহ ভোটমুখী এই চার জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের নাকা তল্লাশি বেশ চোখে পড়ার মত। যথারীতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারি যেমন সবার নজর কেড়েছেন তেমনই পাঁশকুড়ায় ফিরোজা বিবি, ডেবরায় দুই পুলিশকর্তার (ভারতী ঘোষ এবং হুমায়ুন কবীরের ছবি) লড়াইয়ের পাশাপাশি ময়না বিধানসভায় প্রাক্তন ক্রিকেটার অশোক দিন্দাও থাকবেন সবার নজরে। ২০১৬-র নিরিখে আগামীকালের ৩০টি আসনের ফলাফলের বিচারে সিংহভাগই ছিল শাসক তৃণমূলের দখলে। তবে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের ভোটবৃদ্ধি চলতি বিধানসভা ভোটে কোন প্রভাব ফেলবে কিনা সেটা এখনই বলার সময় আসে নি।
করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নির্বাচন কমিশন চার জেলায় ১৯৩৭টি জায়গায় তিন হাজারেরও বেশি পোলিং স্টেশন তৈরি করেছে। থাকছে পর্যবেক্ষকদের বিশেষ নজরদারি। থাকছে রেডিও ফ্লায়িং স্কোয়াডের প্রস্তুতিও। ইতিমধ্যে সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বীপে ভোটকর্মীরা সাগর ও কাকদ্বীপ ডিসিআরসি থেকে লঞ্চে করে ইভিএম মেশিন নিয়ে পৌঁছতে শুরু করেছেন। একইসঙ্গে পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে বিভিন্ন জায়গা থেকে কমিশনের পক্ষ থেকে ভোটকর্মীদের জিনিসপত্র দিয়ে বুথে পৌঁছনর কাজ চলছে।
প্রথম দফার মত এ দফাতেও কমিশন বদ্ধপরিকর রক্তপাতহীন নির্বাচন করতে। তবে প্রথম দফার থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বিতীয় দফাতে যান্ত্রিক ভুলত্রুটি শুধরে কমিশন কতটা শান্তিপূর্ণ ভোট করতে পারে তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন রাজ্যবাসী।