Story
দারিদ্র্য যেখানে নিত্যসঙ্গী, সেখানে আয়ের পথ খুঁজে বের করাটাই সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেটা যদি কোন একটি পরিবার ভিত্তিক না হয়ে একেবারে গোটা সম্প্রদায়ের জন্য দিশা বার করে দেয়, তবে স্বনির্ভরতার হাসি অনেকটা বেশি চওড়া হয়ে ওঠে।
পূর্ব বর্ধমানের শেষ প্রান্তের একটি গ্রাম আউসগ্রাম। বোলপুরের গা ঘেঁষে এই গ্রাম শাল গাছের জঙ্গল আর আদিবাসী সম্প্রদায় নিয়ে কোনরকমে টিকে আছে। এখানে গরীবীয়ানা প্রতিটি ঘরে ঘরে। শালপাতা কোড়ানোর পর তা হাতে সেলাই করে বিক্রি করেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। এতেই যা উপার্জন হয়, তাতে মানুষগুলোর পেট কতটা ভর্তি হয় সেই নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। আর তাই আদিবাসীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এগিয়ে এলো বনদপ্তর। তুলে দেওয়া হলো শালপাতার থালা বাটি তৈরির মেশিন। খুলে দেওয়া হলো কারখানা।
বনদপ্তর এর পক্ষ থেকে মূলত দেওয়া হচ্ছে চারটি মেশিন। এছাড়াও রয়েছে পাতা সেলাই করার মেশিন। আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পরা এলাকার মানুষকে বিশেষত মহিলাদের আর্থিক বিকাশের দিকে গুরুত্ব দিয়ে চালু করা হয়েছে এই প্রকল্প।
তবে বন দফতরের এই প্রকল্পে সনাতন বা পুতুলের মত যথেষ্ট আশাবাদী প্রোজেক্ট ইনচার্জ বৈদ্যনাথ টুডু।
এমনিতেই শালপাতার থালা পরিবেশবান্ধব। আধুনিকতার ছোঁয়ায় থার্মোকল এলেও শালপাতাকে আশ্রয় করেই পেট চালান তাঁরা। তাই এটাকেই যদি বাজারজাত করা হয়, তাহলে আদিবাসী মানুষগুলোর রোজগারে একটা দীর্ঘ স্থায়িত্ব আসবে। অন্তত এমনটাই মনে করছেন ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার প্রণব কুমার দাস।
কিন্তু কিভাবে তৈরি হচ্ছে এই শালপাতার থালা? জানালেন সনাতন কিস্কু নিজেই। একইসঙ্গে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবার প্রসঙ্গটাও তুলে ধরলেন দারুণভাবে।
বনকে বাঁচাতে হলে বনভূমি লাগোয়া মানুষদেরও আর্থসামাজিক বিকাশের প্রয়োজন রয়েছে। বনদপ্তর এর এই প্রকল্প আশা করা যায় ভবিষ্যতে ছড়িয়ে পড়বে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যেখানে আদিবাসী থাকুক বা না থাকুক শালের জঙ্গল থাকবে।
পত্রলেখা বসু চন্দ্র
বর্ধমান