Daily
রান্নার স্বাদ বাড়ালেও খাবার পাতে তেজ পাতা সাধারণত ব্রাত্যই থাকে। ফেলে দেওয়া হয় পাতা। কিন্তু আজ বলতেই হবে যে, তেজপাতার তেজ আছে বটে। না-হলে তেজপাতাকে কেন্দ্র করে ব্যবসা! লাভের অঙ্ক বাড়ে, সঙ্গে স্ব-নির্ভর হন গ্রামের মহিলা, পুরুষ। মানে, তেজপাতার দৌলতে বেশ কয়েকজনের আজ পেট চলছে। বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে।
উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ এবং হেমতাবাদ ব্লকের বাসিন্দাদের কাছে তেজপাতা আর বিকল্প আয়ের পথ দেখিয়েছে। অর্থকরী ফসল হিসেবে তেজপাতার চাষ ভালোরকম হয়। গাছ থেকে পাতা নিয়ে প্রথমে সেগুলো বাছাই করা হয়। তারপর শুকনো করে প্যাকেটবন্দি করা হয়। সেই প্যাকেট পৌঁছে যায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়। বিজনেস প্রাইম নিউজের প্রতিনিধি চলে গেছিলেন তেজপাতা ব্যবসায়ী রতন সূত্রধরের বাড়ি। সেখানেই ক্যামেরা বন্দি হল ডাঁই করে রাখা তেজপাতা। অধিকাংশ মহিলা, তবে পুরুষরাও তেজপাতা বাছাই করে প্যাকেটবন্দির কাজ করছেন মন দিয়ে। রতন বাবুর এই ব্যবসা আজকের নয়। কেউ করছেন কুড়ি বছর তো কেউ দশ বছর, পনেরো বছর। তেজপাতার ব্যবসা আজ এতটাই লাভজনক হয়ে উঠছে যে, ক্রমশ তেজপাতার ব্যবসাকে ঘিরেই রমরমিয়ে চলছে ব্যবসায়ী থেকে শ্রমিকের সংসার। আর কিছু হোক না-হোক, তেজপাতার তেজ আছে বটে।
তেজপাতার ব্যবসা উত্তর দিনাজপুরে বেশ লাভজনক। সারাবছরই তেজপাতা পাওয়া যায়। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ফলন একটু কম হয়। কিন্তু যারা তেজপাতা আঁকড়ে সংসার চালাচ্ছেন তাঁদের খুব একটা চিন্তা করতে হয়না। এই বিষয়ে কী বললেন ব্যবসায়ী রতন সূত্রধর, শুনে নেওয়া যাক।
এই তেজপাতা কখনো সখনো আবার পাঠানো হয় বিদেশেও। তবে পুরো বিষয়টাই হয় অর্ডারভিত্তিক। তেজপাতার একেকটি প্যাকেটের ওজন থাকে ৫০ গ্রাম মতন। অধিকাংশ তেজপাতা যেমন বাইরের রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তেমনই একটু নিম্নমানের পাতাগুলো মশলা তৈরির কাজে লেগে যায়। রান্নার অন্যতম উপকরণ এই তেজপাতা। যা পাওয়া যায়, বাড়ির পাশের মুদির দোকান থেকে হাটে-বাজারে সর্বত্র। অর্থাৎ তেজপাতার তেজ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। রান্নার স্বাদ বাড়ায়, সঙ্গে বাড়ায় উপার্জন।
অনুপ জয়সোয়াল
উত্তর দিনাজপুর