Story

এমনিতেই সোশ্যাল মিডিয়া বহু অজানা বিষয়কে এনে দিয়েছে হাতের কাছে। মানুষের কাছে এখন কোন জিনিষই অধরা নয়। শুধু প্রয়োজন ইচ্ছে, উদ্যম। তাহলে সাফল্য আসবেই। আর যদি নেশাকে পেশা হিসেবে বানিয়ে ফেলা যায় তাহলে সাফল্যের সিঁড়ি দিয়ে মানুষ উঠবে অনেক তাড়াতাড়ি। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গাইঘাটার শরিফুল মণ্ডলের জীবন অনেকটাই এরকমই।
কয়েক বছর আগে বিএ পাশ করার পর সরকারি চাকরির কথা ভেবেছিলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গাইঘাটা থানার পূর্ব বারাসাত গ্রামের বাসিন্দা শরিফুল মন্ডল। সময় পেরিয়ে যাচ্ছে দেখে তিনি আর সরকারি চাকরির পিছনে ছোটেননি। বরং পৈতৃক জমিতে নেশার বশেই শুরু করেন কৃষিকাজ। আর নেশাকে যখন পেশা করে নিলেন তখন শরিফুল জেলার অন্যান্য চাষিদের কাছে হয়ে উঠলেন এক জলজ্যান্ত উদাহরণ। প্রথাগত চাষ না করে তিনি নিজের জমিতে অপ্রচলিত ড্রাগন চাষে মন দিলেন। তারপরেই কেল্লা ফতে। প্রথম বছরেই বিক্রি করলেন ২ লক্ষ টাকার ফল।
শরিফুলের দুই বিঘা জমিতে পিলারের সংখ্যা ৫৫০। প্রতিটি পিলারে রয়েছে চারটি করে ড্রাগন ফলের গাছ। প্রথমদিকে এই ফল চাষ করতে একটু বেশিই খরচা হয়েছিল। কিন্তু এখন তার জমি থেকে ফলন তোলা শুরু হয়ে গিয়েছে। গত বছর করোনার আবহে সেভাবে লাভের মুখ দেখতে পাননি ড্রাগন চাষি শরিফুল। কিন্তু আশা করা যায়, এই বছরে তিনি ভালো অঙ্কের লাভ দেখতে পাবেন। তিনি মনে করেন, প্রতিটি পিলার থেকে গড়ে ১০ কেজি ড্রাগন ফল পাওয়া সম্ভব।
এই অপ্রচলিত ফল চাষে যত টাকা লাভ করতে পারবেন শরিফুল, সাধারণ চাষে যে সেই লাভ নেই তা নিজের মুখেই স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। তবে গাছের জন্য রীতিমত পরিচর্যার প্রয়োজন আছে। গাছকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে, সেও রিটার্ন দেবে স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই বেশি। আর ড্রাগন ফল চাষের যাবতীয় খোঁজ তিনি পেয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে। কৃষিকাজে কোনরকম প্রশিক্ষণ না থাকলেও যে অপ্রচলিত ফল চাষ করে পায়ের জমি আরো শক্ত করা যায় তার জলজ্যান্ত উদাহরণ শরিফুল নিজেই। প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা অন্য কোন কারণে কৃষকরা যখন ফসলের দাম পাচ্ছেন না তখন এই ড্রাগন ফলের চাষ কৃষকদের উৎসাহ বাড়াবে বলেই মনে করছেন তিনি।
দেবস্মিতা মণ্ডল
উত্তর ২৪ পরগনা