Story
চাষির ঘরে জন্ম বলে চাষই হবে পেশা। এটা যেমন ঠিক, তেমনই প্রচলিত চাষই করতে হবে এমন দিব্যিও কেউ দেয়নি কালিয়াগঞ্জের বাঘন গ্রামের যুবক বিনোদ দেবশর্মাকে। তাই ছক ভেঙে বুকে সাহস নিয়ে জেলায় অপ্রচলিত ড্রাগন চাষ করে নজির গড়লেন বাঘন গ্রামের এই যুবক। আর তাঁকে সাহায্য করতে এগিয়ে এল কৃষি দপ্তর। বিনোদের এই সাফল্যই এখন অনুপ্রাণিত করছে অন্যদের।
বাঘন গ্রামের কৃষক পরিবারের যুবক বিনোদ দেবশর্মা ২০১৮ সালে এই ড্রাগন ফল চাষ আরম্ভ করেন। ধান, গম ও সবজি চাষের বাঁধাধরা ছক থেকে বেরিয়ে নতুন কিছু করার আগ্রহ নিয়ে বিনোদ যোগাযোগ করেন কালিয়াগঞ্জ ব্লক কৃষি দপ্তরে। এরপরেই চাষে বিনোদের আগ্রহের কথা শুনে কালিয়াগঞ্জ ব্লক কৃষি দপ্তর সহযোগিতার হাত বাড়ায় তাঁর দিকে।
আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ড্রাগন ফল চাষের পদ্ধতি শেখাতে কালিয়াগঞ্জ ব্লকের কৃষি দপ্তর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেয় বিনোদকে। এরপর বিনোদ শুরু করে ড্রাগন ফলের চাষ। চিন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে ড্রাগন ফলের চাষ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে আগেই। ভারতেও বহু কৃষক ড্রাগন ফল চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কিভাবে এই চাষ শুরু করলেন বিনোদ?
কালিয়াগঞ্জ ব্লকে বিনোদ প্রথম এই ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছেন। কৃষি দপ্তরের আতমা প্রকল্পের অধীনে ড্রাগন ফল চাষে বিনোদকে সমস্ত প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হয়। এখান থেকেই শুরু বিনোদের ড্রাগন ফল চাষে সাফল্যের কাহিনী। ড্রাগন ফল চাষে নিজের এই সাফল্যের জন্য কালিয়াগঞ্জ ব্লক কৃষি দপ্তরকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন বাঘনের বিনোদ।
সম্পূর্ণ জৈব সার দিয়ে এই ড্রাগন ফল চাষ হয়। ড্রাগন ফলে প্রচুর ঔষধি গুণ থাকায় এই ফলের চাহিদাও যথেষ্ট। তাই কালিয়াগঞ্জের বহু মানুষ তার কাছে এসে ড্রাগন ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ২০০-২৫০ টাকা কেজি দামে এই ড্রাগন ফল বিক্রি করছেন বলে জানান বিনোদ। যদিও ফল বিক্রির ক্ষেত্রে কৃষি দফতরের সেরকম কোন সাহায্য লাগেনা তার।
ব্লক কৃষি আধিকারিক গোপাল চন্দ্র ঘোষ জানান, ড্রাগন ফল চাষ করার জন্য বিনোদকে সাহায্য করা হয়েছে আতমা প্রকল্পের মাধ্যমে। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে তাঁকে। যেভাবে ড্রাগন ফল চাষ করে সে লাভবান হচ্ছে তার জন্য তাঁকে সামনে রেখে প্রচার চালানো হচ্ছে যাতে আরো কৃষকেরা এগিয়ে আসে।
ড্রাগন ফল এখন শুধু বিদেশী ফলই নয়, দেশেও এই ফলের চাহিদা বেশ তুঙ্গে। তাই নতুন কৃষকদের এই চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তুলতে বিনোদই এখন কালিয়াগঞ্জ ব্লক কৃষি দপ্তরের মুখ হয়ে উঠেছে।
অনুপ জয়সোয়াল, উত্তর দিনাজপুর