Story
ব্রিটিশদের হাত ধরে ভারতবর্ষে ১৮৪০ সালে বাণিজ্যিকভাবে চায়ের উৎপাদন শুরু হয়। সেই যে শুরু পথ চলা আজ সেই চা-ই বিবর্তিত হতে হতে ফুল চায়ে পরিণত হল এই বাংলায়। আর যে সে ফুল নয়, জবা ফুলের চা যে ওষধিগুণে ভরপুর তা স্বীকার করে নিলেন আয়ুষের চিকিৎসকেরাও। এবং ক্লিনিকাল নিউট্রিশনেও পাওয়া যাচ্ছে এর প্রমাণ। আর হার্বাল জবাফুলের চায়ে বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে বাংলার জবা ফুল চাষিরা। তাই পুজো ছাপিয়েও বাংলায় ওষধি গুণে ভরপুর হবার জন্য জবা ফুলচাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের মধ্যে। কারণ জবা ফুলই এখন হয়ে উঠেছে অন্যতম অর্থকরী ফুল ফুলচাষিদের কাছে।
এই যেমন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গাইঘাটা ব্লকের ঠাকুরনগর আনন্দ পাড়া গ্রামের কৃষক দ্বারকানাথ সরকার। ২০ বছর আগে মাত্র ১৫ কাটা জমিতে জবা ফুলের চাষ শুরু করেন। বর্তমানে সেই জমি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ বিঘায়। কারণ, জবা ফুলের বাজার থাকে সারাবছর। আর একবার গাছ বসানোর পরে যদি সঠিক পরিচর্যা করা যায়, তাহলে জবা গাছ ফুল দেবে ২০-২৫ বছর ধরে। অর্থাৎ যত গাছ, তত লাভ।
কিন্তু জবা চাষ শুরু করলেই তো হলনা। তারজন্য প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা। তবেই তো গাছ ভালো ফুল দিতে পারবে। কবে থেকে গাছ ভালোভাবে ফুল দেওয়া শুরু করে? আর কিই বা গাছের পরিচর্যার নিয়ম? সেটাও জানালেন দ্বারকানাথ সরকার।
বছরে সার দিতে হয় তিনবার। সুফলা সার পেলে তবেই না জবা গাছ ফুল দেবে। সার দেওয়ার সঠিক সময় কোনগুলো?
আর পরিচর্যা? গাছের যত্ন না নিলে গাছ বেড়ে উঠবে কিভাবে? প্রাকৃতিক দুর্যোগে জল উঠে যদি নষ্ট না হয় তাহলে একই জমি থেকে কম করে কুড়ি বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। তবে আর কোন কোন দিকে নজর রাখলে পাওয়া যাবে ভালো ফলন?
এমনিতে জবা চাষে তেমন একটা সমস্যা তৈরি হয়না। কিন্তু দয়ে পোকার মত আক্রমণ হলে গাছের আয়ু থেকে ফুল ধরা সবই কমতে থাকে। তবে কৃষকদের এই সবদিক থেকে সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত কৃষিদপ্তর। এমনটাই জানালেন হাবড়া ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা কুসুম কমল মজুমদার।
এবার নজর দেওয়া যাক একটু অন্যদিকে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজ ভারতবর্ষের হার্বাল টি দিশা দেখাচ্ছে গোটা বিশ্বকে। তার মধ্যে অন্যতম জবা ফুল। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। জবা ফুল শুধু পুজোতেই নয়। এই ফুলেরএমন কিছু নিজস্ব গুণ রয়েছে যা শরীরের জন্য কার্যকরী। বললেন, এপিসি কলেজের ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশনের অধ্যাপিকা ড. সুনন্দা বিশ্বাস।
তবে জবা ফুলের আয়ুর্বেদিক গুণ কতটা সেই বিষয়ে জানালেন আয়ুর্বেদ চিকিৎসক ডা: তাপসী দত্ত।
তবে জবা ফুলের চা বর্তমানে অনেকটাই জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। সুস্থ থাকার জন্য জবা ফুলের চা ঠিক কতটা প্রয়োজনীয়? বললেন ডা: তাপসী দত্ত।
সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, পুজো থেকে স্বাস্থ্য সর্বক্ষেত্রে জবা ফুলের চাহিদা বাড়বাড়ন্ত। তাই জবা ফুলের চাষ করলে লাভবান হওয়াই যায়।
জবা ফুলের চাষে লাভবান হয়েছেন দ্বারকানাথ। আর তাঁকে দেখেই অনেক কৃষক এগিয়ে উৎসাহ দেখাচ্ছেন জবা ফুল চাষে। যেমন গোপাল ঘোষ।
ন্যূনতম খরচে পরিচর্যার দিকে যত্ন রাখলে জবা গাছ ফুলে ভরিয়ে দেবে। এবং দ্বারকানাথের মত অন্যান্য কৃষকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এই জবা চাষ করেই।
দেবস্মিতা মন্ডল, উত্তর ২৪ পরগনা