Daily

মানস চৌধুরি, কলকাতাঃ দীর্ঘ ৪১ বছর পর আজ দমদমের কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পেলেন নেপালের বাসিন্দা দীপক জোশি। আইনি লড়াই প্রায় ৪০ বছর । ১৯৮০ সালে দার্জিলিং থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় হত্যার সাথে জড়িত থাকার ঘটনায়। ১৯৮১ সালে দীপক জোশিকে আদালত রায় দেন তিনি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত। এরপর দীর্ঘ বছর ধরে সংশোধনাগারের দিন কেটেছে তার। একাধিকবার মেডিকেল টীম তার মানসিক অবস্থার কোন পর্যাপ্ত রিপোর্ট দিতে পারেনি আদালতে। মানসিক বিপর্যস্ত দীপক জোশির পাশে দাঁড়ায় পশ্চিমবঙ্গের হ্যাম রেডিও। দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনগরে থাকা প্রাক্তন এক বন্দী দীপক জোশির খবর পৌঁছে দেন হ্যাম রেডিওর সদ্যস দের কাছে। এরপর তৎপরতার সাথে হ্যাম রেডিওর সদ্যসরা ময়দানে নেমে পরে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর নেপালের হ্যাম রেডিওর সদ্যস দের সহায়তায় তাঁরা খুঁজে পান দীপক জোশির পরিবারকে। তাঁরা জানতে পারে দীপক জোশির ৯২ বছরের মা এখন জীবিত এবং সে ছেলের মৃত ভেবে ছেলের ছবিতে এখনো প্রতিদিন ফুল মালা দিয়ে পুজো করেন। দীপক জোশি জীবিত জানতে পেরে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পরে গোটা পরিবার। ভাই কে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে নেপাল থেকে ছুটে আসে দীপক জোশির দাদা। শেষ পর্যন্ত মানসিক বিপর্যস্ত দীপক জোশি র সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দেন বেশ কয়েক জন আইনজীবী ও নেপাল হাই কমিশন। আদালতের রায়ে আজ দীপক জোশি মুক্তি পেল দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার থেকে। দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে এসে ভাইকে নিয়ে যাবার আগেই ভাইয়ের মুক্তির আনন্দের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠল দাদার চোখে মুখে, সে বলতে পারেনা বাংলা ভাষা বা হিন্দি, তাকে সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করতে হয়েছে দোভাষীদের উপর। শেষ পর্যন্ত মুক্তি দীর্ঘ ৪১ বছরের জেল বন্দী দীপক জোশির।