Story

কথায় বলে, প্রতিটা জিনিসেরই একটি ভালো এবং একটি মন্দ দিক আছে। সেদিক থেকেই বাদ নেই ইন্টারনেট। এই নেট প্রযুক্তি বর্তমান বিশ্বকে চালনা করছে বললে খুব একটা বাড়াবাড়ি হবে না। কিন্তু সেই প্রযুক্তিরও তো একটা অন্ধকার দিক আছে। যেখানে সব ধরণের কাজকর্ম হয় গোপনে। এমনকি এই প্রযুক্তি যে ব্যবহার করছে, তারও পরিচয় চট করে জানা সহজ হয় না। যাকে সবাই চেনে ডার্ক ওয়েব হিসেবে।
মার্কিন সেনাবাহিনী ষাটের দশকে সেনা, এয়ারফোর্স থেকে শুরু করে নৌবাহিনী। সবাইকার সঙ্গে কম্পিউটারগুলোর যোগাযোগ তৈরির জন্য একটি নেটওয়ার্ক তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। যার দায়িত্ব দেওয়া হয় সরকারি সংস্থা অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রোজেক্টস এজেন্সি বা আর্পার উপর। প্রথম দিকে এই নেটওয়ার্কের নাম ছিল আর্পানেট। পরবর্তীতে সেটাই বাণিজ্যিক সংস্থা থেকে সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে ইন্টারনেট হিসেবে। যাকে ছাড়া আজকের দুনিয়া একপ্রকার অচল বলাই চলে। কিন্তু সাধারণভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারকারির পরিচয় খুব সহজেই জানতে পারা সম্ভব। যা মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে কোন রাষ্ট্রীয় তথ্য চালাচালির সময়। অবশেষে মার্কিন নৌবাহিনীর নেভাল রিসার্চ ল্যাবরেটরি একটি আলাদা নেটওয়ার্ক তৈরির দায়িত্ব নেয়। যে নেটওয়ার্কে ব্যবহারকারির পরিচয় মাঝপথে জানা বেশ কঠিন। কারণ এক্ষেত্রে একটি ওভারলে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়। নাম দেওয়া হয় ওনিওন রাইটিং। এই নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে ওয়েবসাইটগুলো সহজেই ভিজিট করা সম্ভব সেগুলোই ডার্ক ওয়েব নামে পরিচিত।
ডার্ক ওয়েব শব্দটা শুনলেই প্রথমে মাথায় আসে এই নেট প্রযুক্তি নিশ্চয়ই কোন না কোনভাবে অপরাধমূলক কিছুর সঙ্গে যুক্ত। হ্যাঁ। সেটা অবশ্য খুব ভুল নয়। কারণ পরিচয় গোপন রাখার সুবিধা আছে বলে, ডার্ক ওয়েবকে অপরাধপ্রবণ মানুষ খারাপ উদ্দ্যেশ্যে ব্যবহার করে থাকে। তার জন্য মাঝেমধ্যেই এফবিআইকে হানা দিতে হয়। একটি সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে, ২৭২৩টি ওয়েবসাইটের মধ্যে ১৫৪৭টিতেই অবৈধ কাজকর্ম চলে। আবার এটাও ঠিক যে এই অবৈধ উপায়ে ব্যবহারকারির সংখ্যা শতাংশের বিচারে মাত্র ৩-৪ শতাংশ। বাকি ৯৬ শতাংশ একে ব্যবহার করে শুধু পরিচয় গোপন রাখার জন্যই। শেষে একটা কথা। আমরা যে ওয়েবসাইট ব্যবহার করি তার জন্য গুগলের মত সার্চ ইঞ্জিনের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু ডার্ক ওয়েবের ওয়েবসাইট এখান দিয়ে খুলবে না। ইন্টারনেট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডার্ক ওয়েবে অনেক বেশি গুন তথ্য রয়েছে যা সাধারণ ওয়েবসাইটগুলোর থেকে অনেকটাই বেশি। তাহলে ডার্ক ওয়েবে ঢুকবেন কি করে? আদৌ কি ডার্ক ওয়েব সত্যি সুরক্ষিত? সবটাই জানতে পারবেন ধীরে ধীরে।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ।