Daily
শেষ হয়েও শেষ হচ্ছে না শীত। আর গ্রীষ্মপোড়া দেশের শীত-চাতক বঙ্গবাসীরা শীতের এই শেষ ল্যাপের দৌড় একেবারে চেটেপুটে নিচ্ছে। এখন ছুটির মরশুম নয়। বরং মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক মিলিয়ে বোর্ড পরীক্ষার ঝক্কি নেহাত কম নয়। তারই মধ্যে এই অকাল তুষারপাতের খবর পেয়ে শৈলরানিতে ভিড় জমান পর্যটকেরা। তবে, যতই যাই হোক। প্রকৃতির এই খামখেয়ালিপনায় এবার অন্তত হাসি ফুটেছে পাহারবাসি এবং পর্যটক- দুপক্ষের মুখেই।
গত ২৬ শে ফেব্রুয়ারি রাত থেকেই প্রবল তুষারপাত শুরু হয় দার্জিলিঙের সান্দাকফু আর নর্থ সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে। ছাঙ্গু লেক থেকে শুরু করে নাথুলা পাস, গুরুদংবার লেক, পেলিং, কালাপাহাড়, ইয়মথাং ভ্যালির বিস্তীর্ণ অঞ্চল বরফের সাদা চাদরের নিচে। এমনকি দুর্যোগের কারণে সান্দাকফুর বেশ কয়েক কিলোমিটার আগেই আটকে যাচ্ছে গাড়ি। তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও তুষারপাতের সাক্ষী থেকেছে কুইন অফ হিলস। অঝোরে ঝরছে বরফ। পর্যটকে ঠাসা ম্যাল। বরফ নিয়ে খেলায় মত্ত পর্যটকেরা। একেই বলে বাড়তি পাওনা। এমন তো আর সুযোগ সচরাচর আসে না! তাই প্রানপণে উপভোগ করছেন শীতের শেষ ইনিংস। আর পর্যটকদের এই উচ্ছ্বাসে খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
অন্য সময় দার্জিলিং গেলে চোখে পড়ে শুধু তুষারাবৃত কাঞ্চনজঙ্ঘা। আর কাছেপিঠের মধ্যে বাঙালির বরফ দেখার স্বপ্ন পূরণ করে সিকিম। আর এই প্রবল তুষারপাতের জেরে বিভিন্নরকম সতর্কতা দেওয়া সত্ত্বেও আটকানো যায়নি পর্যটকদের। যতই হোক, ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে এসেও শৈলশহরের এহেন দৃশ্য কি আর বার বার আসে? তাপমাত্রাও কমছে দ্রুত গতিতে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে যে আগামী বেশ কয়েকদিন তুষারপাতের বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে আশেপাশের এই অঞ্চলে।
এদিকে শীতের শেষ ইনিংসে এই চমকে শিলিগুড়িতেও জাঁকিয়ে পড়ছে শীত। মূলত পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণেই জাঁকিয়ে শীত ফিরল উত্তরবঙ্গে। এমনটাই জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। সব মিলিয়ে, গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর ভরা বাজারেও বারবার চমক দিচ্ছে শীত। এখন গ্রীষ্মেও কোন চমক অপেক্ষা করছে কি না, সেটাই দেখার।
অরূপ পোদ্দার
শিলিগুড়ি