Tourism
থোড় বড়ি খাড়া জীবনের মনোটনি কাটাতে পাহাড়ের বিকল্প কি আর কিছু হয়? থ্রি নাইট ফোর ডেজ-এর প্যাকেজ মানেই বাক্স প্যাটরা গুছিয়ে ধা। সোজা গিয়ে হাজির পাহাড়ে। আর মধ্যবিত্ত বাঙালির কাছে দামে কম মানে ভালো বলতে ওই একটাই অপশন-দার্জিলিং।
পাহাড়সুন্দরী দার্জিলিং। ব্রিটিশরাজদের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী। দার্জিলিঙের জনপ্রিয়তা সেই সময় থেকে আজ অবধি একেবারে একইরকম রয়েছে। তবে দার্জিলিং বলতে আমি, আপনি বা আমাদের মতো আমবাঙালি যা বোঝে, তার বাইরেও রয়েছে এক অজানা অচেনা দার্জিলিং। নিরিবিলি, শান্ত, আর চেনা দার্জিলিঙের চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর। আজ এমনই এক নিরিবিলি দার্জিলিঙের খোঁজ দেব আপনাদের। শহরের কোলাহল থেকে একটু ব্রেক নিতে চাইলে দিব্যি প্ল্যান করতে পারেন এখানে।
একদিকে দার্জিলিঙের বিজনবাড়ি আর অন্যদিকে সিকিমের জোড়াথ্যাং। এর এই দুইয়ের মাঝেই রয়েছে পাহাড় আর পাইনের গন্ধ মাখানো নিস্তব্ধ দার্জিলিঙের ঝেপি গ্রাম। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ১১৫ কিলোমিটার দূরে আর দার্জিলিং শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার ভিতরে থাকা এই গ্রামের সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। দার্জিলিং শহর থেকেই গাড়ি ভাড়া করে, হিমালয়কে বাঁ পাশে রেখে, পাহাড়ের আঁকাবাকা রাস্তা ধরে ঝেপি পৌঁছতে আপনার সময় লাগবে ওই ঘণ্টা দুয়েক মত। থাকার জন্য প্রচুর হোম স্টে-ও রয়েছে। কাজেই থাকা খাওয়ার বিষয়ে একদম নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন আপনি।
হোম স্টের এক পাশে উঁচু পাহাড় আর এক পাশে নাম না জানা পাহাড়ি নদী। হোম স্টের ঘরের বারান্দায় বসলে দিব্যি এনজয় করতে পারেন পাহাড়ি নদীর কলকল শব্দ কিংবা পাহাড়ি পোকামাকরের শব্দ। আর নদীর পারে যদি তাঁবু খাটিয়ে একটা রাত কাটানোর সুযোগ পান? ব্যাপারটা পুরো জমে ক্ষীর। ঝেপি গ্রামের এরকমই এক আকর্ষণীয় হোম স্টে হচ্ছে চেতনা ফার্ম স্টে। সম্পূর্ণ আটপৌরে আয়োজন সেখানকার। রয়েছে ৬ টা ঘর। আর বাকি অংশে পাহাড়ের ধাপে ধাপে চাষ করেন তারা। রয়েছে মুরগী প্রতিপালনের ব্যবস্থা। আর পর্যটকদের ভিড় জমলে নিজস্ব ফার্ম থেকেই সবজি এনে অতিথি সেবা করেন তারা। এছাড়াও পর্যটকদের বিনোদনের জন্য কোন ত্রুটি রাখেননি হোম স্টে কর্তৃপক্ষ।
শীতকাল। মনটা একটু পাহাড় পাহাড় করেই। কিন্তু দার্জিলিঙের ম্যাল বাঁ মহাকাল মার্কেটের ভিড় চোখের সামনে ভাসতেই হয়তো পিছিয়ে আসেন, মানে যারা ভ্রমনপ্রিয় কিন্তু একটু একা, শান্ত জায়গা পছন্দ করেন, তাদের জন্য ঝেপি কিন্তু ডেফিনিটলি একটা স্মার্ট চয়েস।
অরূপ পোদ্দার
শিলিগুড়ি