Daily
সামনেই সরস্বতী পুজো। মানে, বাঙালির ভ্যালেন্টাইন ডে আসতে আর বেশি দেরি নেই। আর এই সরস্বতী পুজো মানেই শাড়ি পড়ে স্কুলে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, আর অবশ্যই সারা বছরের প্রতীক্ষা শেষে জমিয়ে কুল খাওয়া। সরস্বতী পুজোর আগে যে কুল খাওয়া নিয়ে বড়োদের নানারকম বিধিনিষেধ শুনে চলতে হয় ছোটদের। সরস্বতী পুজোর আগে কুল খেলে নাকি বাগদেবী ক্রুদ্ধ হন। আর তাই সরস্বতীপুজোর আগে কুল খেলেই ডাহা ফেল। সে যাই হোক। কুল খাওয়া নিয়ে বিধিনিষেধ থাকতেই পারে, কিন্তু কুল চাষে তো কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। তাই বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সরস্বতী পুজোর আগে চুটিয়ে কুল চাষ করছেন বাংলার চাষিরা।
নারকেল কুল, টোপা কুল কিংবা আপেল কুলের চাষ তো আমরা অহরহ দেখে থাকি। কিন্তু আপেলের মতো দেখতে অথচ গন্ধ কমলালেবুর মতো, এমন কুল চাষ হতে দেখেছেন কখনও? গতে বাধা চাষের বাইরে বেরিয়ে এই হাইব্রিড কুল চাষ করেই তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের কৃষক জিতেন বর্মণ।
বেশ কয়েকবছর আগে প্রথাগত চাষআবাদ থেকে সরে এসে নিজের এগারো কাঠা জমিতে কুল চাষ শুরু করেন জিতেন বাবু। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। অ্যাডভান্স কুল, কাশ্মীরি আপেল কুল, নারকেল কুলের পাশাপাশি নিজস্ব তেরো কাঠা জমিতে সবমিলিয়ে প্রায় চার প্রজাতির কুল চাষ করেছেন জিতেন বাবু।
আত্মবিশ্বাস, সঠিক পরিচর্যা আর সঠিক পরিমাণে জমিতে সার প্রয়োগের মাধ্যমে আজ বেশ ভালো আয়ও করছেন জিতেন বাবু। এক একটি গাছ থেকে প্রায় ২০-২৫ কেজি কুল পাচ্ছেন তিনি। যা বাজারে বিক্রি করে আয় হচ্ছে প্রায় ৯০ টাকা মতো।
গতে বাধা চাষের বাইরে বেরিয়েও সঠিক প্ল্যানিং করে এগোলে যে সফল হওয়া যায়, তা প্রমাণ করে দিয়েছেন কালিয়াগঞ্জের এই কৃষক। পাশাপাশি, আগামী দিনে অনান্য কৃষকরাও যাতে এই কুল চাষ করে মোটা টাকা আয় করতে পারেন, দেখিয়েছেন সেই রাস্তাও। তবে, ভবিষ্যতে আরও বড় করে এই হাইব্রিড কুল চাষের ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন তিনি। আর তাই সরকারকে পাশে চেয়েছেন জিতেন বাবু। ছোট জমিতে মোটা টাকা আয়ের একটা দারুন উপায় যে এই হাইব্রিড কুল চাষ, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।। তবে সবদিক বিচার করে, সরকার কোনরকম সাহায্যের হাত বাড়ায় কি না, এখন সেটাই দেখার।
অনুপ জয়সয়াল
উত্তর দিনাজপুর