Market

কোভিড অতিমারীর পর ভারতে আবাসন সহ রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে অন্তত এই ব্যবসার ক্ষেত্রে কোভিডকে অভিশাপের বদলে আশীর্বাদ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞমহল। ভারতের রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদের সংগঠন CREDAI এর ধারণা আগামী ৫ থেকে ১০ বছর ভারতের রিয়েল এস্টেট এর ক্ষেত্রে স্বর্ণ যুগ হতে চলেছে। ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতা যেহেতু বৃদ্ধি পেয়েছে তাই কেন্দ্র সরকারের কাছে ক্রেডাইের দাবি সস্তার আবাসনের সর্বোচ্চ পরিমাপ বাড়িয়ে ১ হাজার বর্গ ফুট করা হোক।
বৃহস্পতিবার ২১ তম ক্রেডাই ন্যাটকন কনফারেন্সে ক্রেডাই ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট শেখর প্যাটেল জানিয়েছেন যে প্রায় ২৫৬ টি শিল্প ভারতের রিয়েল এস্টেটের ওপর নির্ভরশীল। আর তাই ভারতের মোট জিডিপি তে রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রের অংশীদারত্ব এই মুহূর্তে প্রায় ৫০%। যা অর্থের পরিমাণে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ইউএস ডলারের কাছাকাছি। তিনি আরও আশা করেন যে ২০৩০ সালের মধ্যে এই অংশীদারত্ব বেড়ে ১ ট্রিলিয়ন ইউএস ডলারে পৌঁছবে। আর এই বৃদ্ধির প্রধান সাহায্যকারী শক্তি হবে সস্তার আবাসন।
কোভিড পরবর্তী সময়ে মানুষের বড় মাপের ফ্ল্যাট কেনার প্রবনতা বেড়েছে। আর তাই সস্তার আবাসনের থেকে অনেক বেশি বিক্রি হয়েছে মিড প্রিমিয়াম সেগমেন্টের যেখানে ফ্লাটের মাপ তুলনামুলকভাবে বেশি। আর এই জন্যই ভারতের রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্র দামের দিক থেকে প্রিমিয়ামাইজেশনের পথেই পা বাড়িয়েছে। তাহলে কি যাদের আয় কম তারা আর আগামীদিনে ফ্ল্যাট কিনতে সক্ষম হবেন না? এই প্রসঙ্গে CREDAI national president বোমান আর ইরানি বলেছেন যে সস্তার আবাসন নিশ্চয়ই থাকবে কিন্তু যাদের বড় ফ্ল্যাট কেনার ক্ষমতা আছে তাদেরকে ছোট ফ্ল্যাট কেনার মধ্যে বেঁধে রাখা উচিত হবে না। তিনি এও বলেছেন যে ফ্ল্যাটের দাম ক্রেতার আয়ত্তের মধ্যেই থাকা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু ফ্ল্যাটের মাপের ক্ষেত্রে কোন রকম বাধা সৃষ্টি করা ঠিক নয়।
ভারতের সমস্ত পরিবার যাতে মাথার ছাদ পায় তাই কেন্দ্র সরকার সস্তার আবাসনে হোম লোনে ভর্তুকি দেবার পরিকল্পনা করেছে। আর এই খাতে আগামী ৫ বছরে কেন্দ্রের খরচ হবে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ