Daily
বি পি এন ডেস্ক: ঘুম ভাঙার পর থেকেই দৌরাত্ম্য শুরু। নিজের ফর্মে ফিরে এলো করোনা ভাইরাস। গত বছর দাপট দেখানোর পর ক্রমশ তার শক্তিক্ষয়ের আভাসই পাচ্ছিলেন দেশের তাবড় চিকিৎসকমহল। কিন্তু প্রশাসন থেকে ডাক্তার সকলের ঘুম কেড়ে নিল করোনার সেকেন্ড ওয়েভ। মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাবের মত রাজ্যগুলির এখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। এখন সেই ঝড়ের হাওয়ায় ফের কাঁপছে পশ্চিমবঙ্গ। কেন্দ্রের নজর আরও বেশি করে বাংলামুখি কারণ নির্বাচনের পালা চলছে এই রাজ্যে। সবে প্রথম দফার ভোট হয়েছে শেষ। বাকি এখনও আরও সাত দফা। এর মধ্যেই করোনা ভাইরাস স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনের মাথায় বজ্রাঘাতেরই মত। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে সংক্রামিত হয়েছেন ৬৮ হাজার ২০ জন। যা এককথায় রেকর্ড ব্রেকিং।
করোনার গ্রাফ ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই তরতরিয়ে বাড়ছিল। গত এক সপ্তাহে ১২টি রাজ্যের ৪৬টি জেলায় সংক্রমণের বহর দেখে মোদী সরকারের মাথায় জমে দুশ্চিন্তার মেঘ। কারণ ভোটরাজ্যে কেন্দ্রের নজরে এবার কলকাতা সহ উত্তর ২৪ পরগণা। সংক্রমণের পরিস্থিতি ফের অবনতি হওয়ায় কিভাবে ভাইরাসের সঙ্গে লড়ে ওঠা যায় তারই জন্য পরিকাঠামো গত সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিল কেন্দ্র। পরিস্থিতি সামলানোর জন্য ১২টি রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক সারেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ এবং নীতি আয়োগের সদস্য (স্বাস্থ্য) বি কে পল।
পশ্চিমবঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২৭। সংক্রমণের বৃদ্ধি উদ্বেগ বাড়িয়েছে ভালোরকম। অবস্থার দিকে তাকিয়ে কেন্দ্র রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে আরটিপিসিআর পরীক্ষার সংখ্যা বাড়াতে হবে। যে যে এলাকায় সংক্রমণের বহর বেশি সেই এলাকাগুলোকে মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন করতে হবে। যাতে সংক্রমণকে সীমাবদ্ধ রাখা যায়। এছাড়াও বেশ কিছু হাসপাতালগুলিকে আবার করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য দেওয়া হয়েছে নির্দেশ।
বিধাননগর মহকুমায় করোনার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩১৬জন, নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২৮ জন। বারাকপুর মহকুমা এলাকায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫৪৭ জন, নতুন আক্রান্ত রোগী ৬২জন। বারাসত মহকুমায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০৬ জন, নতুন আক্রান্ত ১৭ জন। বনগাঁ মহকুমায় মোট আক্রান্ত ১২ জন এর মধ্যে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ জন।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বর্তমানে সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ, সিএনসিআই রাজারহাট, অশোকনগর স্টেট জেনালের হসপিটাল ও গোবরডাঙা কোভিড হাসপাতালে এই চারটি সরকারী এবং জেএনআরসি হসপিটাল ও টেকনোগ্লোবাল হসপিটাল এই দুটি বেসরকারি হসপিটালে কোভিডের চিকিৎসা হচ্ছে। মোট ছটি হাসপাতালে কোভিড চিকিৎসার জন্য রয়েছে ৫৫৮টি বেড।
নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রের নির্দেশ রাজ্যবাসিকে হতে হবে সতর্ক। কোভিড বিধি মেনে রাজ্যবাসী যদি সচেতন না হয় তাহলে কিন্তু আশঙ্কার মেঘ আরও ঘনীভূত হবে। করোনা ভাইরাসের থাবা আরও হবে চওড়া।