Daily
শীতকালে বাজার করার মজাই আলাদা। একে তো রঙিন বাজার, তাও আবার এত কম দামে- এমনটা বোধ হয় শুধুমাত্র এই সময়টাতেই সম্ভব। ইদানিং আবার বাজারে কালারিং ফুলকপি আলাদা একটা জায়গা করে নিয়েছে। ব্রকলি তো ছিলই, এইবছর আবার দোসর হিসেবে জুটেছে হলুদ আর বেগুনি ফুলকপি। চাহিদা বেশি থাকায় কৃষকরা এই নতুন চাষেও বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আর সত্যি বলতে লাভবানও যে হচ্ছেন, সে কথা অস্বীকার করবার জায়গা নেই। এমনই একজন কৃষক হলেন নদীয়ার মদনপুরের ইয়াজুল মণ্ডল।
তার চাষ করার পদ্ধতি জানার আগে কেন তিনি এই বিকল্প চাষ শুরু করলেন, সেইবিষয়টা একটু বলে নেওয়া যাক। চার ভাইয়ের পরিবার। পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ হওয়ার পর ভাগে যতটুকু জমি পান, সেখানেই প্রথাগতভাবে চাষ-আবাদ শুরু করেন। প্রথাগত চাষে ডাল-ভাত জুতে যাচ্ছিল ঠিকই। কিন্তু উন্নতি কিছুই হচ্ছিল না। এদিকে ১১ মাসের ছেলে থ্যালাসেমিয়াতে আক্রান্ত। চিকিৎসার খরচও বেশি। বিকল্প পথ না পেলে দেওয়ালে পীঠ থেকে যাওয়ার মতো অবস্থা। কিন্তু পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, হেরে যান নি ইয়াজুল বাবু। আজ বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কাল কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রে, পরশু এডিএ অফিসে চষে বেড়ান বিকল্প উপায় খুঁজতে। অবশেষে তাদের সহযোগিতাতেই শুরু করেছেন বিকল্প চাষ। যেখানে তার জমিতে ফুটেছে রঙিন ফুলকপি, ফলেছে ড্রাগন ফলের মতো অর্থকরী ফসল।
নতুন কোন ফসল চাষের জন্য যোগাযোগ করতে যাকে এতটা কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে, তাকে সেই ফসলের বাজার পেতে না জানি কতই কষ্ট হয়েছে। তার উপর গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত গ্রাম, আর সেখানকার বাজারে ব্রকলি, ড্রাগন ফ্রুট কিংবা রঙিন ফুলকপির বাজার পাওয়াটা বেশ দুঃসাধ্য। তবে, ফসল ফলিয়ে তিনি সেই বাজার হাসিল করেছেন। সেই গল্পটাইশুনব তার মুখ থেকে।
কিন্তু শীতকালীন ফসল হিসেবে বাজারে তো ফুলকপির চাহিদা বেশ ভালোরকমই ছিল। কিন্তু হঠাৎ কি কারণে রঙিন ফুলকপি এসে সেই বাজার দখল করলো? ঠিক কী কী পার্থক্য রয়েছে সাধারণ ফুলকপি বা বাঁধাকপি-র সঙ্গে এই রঙিন ফসলের? আর সেই রঙিন ফসল চাষ করে কতটা সমৃদ্ধ হচ্ছেন কৃষক ইয়াজুল মণ্ডল, শুনে নেব। তিনি বলেছেন সাধারন ফুলকপি থেকে এই সবুজ ফুলকপি্র বীচ এর দাম একটু বেশি কারন এই গুলো মাল্টি নাসানাল প্রতিষ্ঠানের থেকে পাওয়া যায়। আর অন্যান্য ফুলকপি চাষ করতে যে সময়, জল , সার আর যা যা লাগে সবুজ ফুলকপি চাষ করতে ও তাই লাগে।
তবে, শুধু বিকল্প চাষ নয়। দুটো বাড়তি পয়সা রোজগারের আশায় শুরু করেছেন গোটারি। বন্ধু অপু চ্যাটার্জির সহযোগিতায় দেড় বছর আগে গোটারির ব্যবসা শুরু করেন। আর এর মাধ্যমেও বেশ ভালো অঙ্কের লাভের মুখ দেখেছেন তিনি।
এলাকার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে কোনরকম ত্রুটি রাখতে চান না তিনি। তাই নিজে যেমন সফল হয়েছেন এবং তেমনই আশেপাশের চাষিদের এই বিকল্প চাষ করতে উৎসাহিতও করছেন ইয়াজুল বাবু।
সুব্রত সরকার
নদীয়া