Daily
আয় কিভাবে বাড়ানো যায়, সেই নজির তৈরি করেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের আরেক প্রগতিশীল কৃষকবন্ধু। যিনি নিজের চেষ্টায় জেলার অন্যান্য কৃষকদের থেকে উপার্জনের রাস্তাটা অনেক বেশি চওড়া এবং মসৃণ করতে পেরেছেন। একদিকে কড়কনাথ মুরগি, অন্যদিকে রঙিন মাছের চাষ। উপরি হিসেবে রয়েছে এদের খাবার তৈরির একটা ধুম। সব মিলিয়ে লাভের অঙ্ক যেন দিন দিন বাড়ছে। আর সেই ছবিটাই ধরা পড়ল বিজনেস প্রাইম নিউজের ক্যামেরায়।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি ৩ নম্বর ব্লকের কানাইদীঘি গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাঁইটগড় গ্রামের কৃষক হলেন ভবশঙ্কর মণ্ডল। সত্যি বলতে কি, আজ তিনি কিন্তু জেলার মধ্যে একজন প্রগতিশীল কৃষক হিসেবে অন্যান্য কৃষকদের পাশাপাশি কৃষি দফতরের বিভিন্ন আধিকারিকদের দৃষ্টি নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিতে পেরেছেন। কারণ সাবেকি প্রথায় চাষ না করে ভবশঙ্কর একেবারে বিপরিত দিকে হেঁটে চাষ করছেন কড়কনাথ মুরগি। আবার একইসঙ্গে চাষ করছেন রঙিন সব মাছ। কড়কনাথ মুরগি দেখতে হয় কালো। একটা সময় কালো প্রজাতির কড়কনাথ মুরগির চাষ তেমন একটা জনপ্রিয়তা না-পেলেও আজ দিন দিন এই ধরণের মুরগি প্রতিপালন যেন বেশ ট্র্যাডিশন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যারা কড়কনাথের কথা জানেন, তাঁরা কিন্তু এই মুরগি চাষে বেশ আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে হ্যাঁ, কৃষি দফতরের নিরন্তর প্রয়াস না-থাকলে চাষ করে আয় বাড়ানোর পথটা এতো মসৃণ হত না বলে মনে করছেন ভবশঙ্কর বাবু। কারণ কৃষি দফতরের যে আত্মা প্রকল্প রয়েছে, সেই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ভবশঙ্কর বাবু হাতে পেয়েছেন একটি প্যালেড ফিড যন্ত্র। কী সেই যন্ত্র আগে সেটা দেখুন।
এর মাধ্যমে তিনি বাড়ি বসেই তৈরি করে ফেলছেন খাবার। একদিকে মুরগি, অন্যদিকে মাছ। আগে মাছের খাবার কিনতে ভবশঙ্করবাবুর খরচ পড়ে যেত প্রায় ৬০টাকা মতন। সেখানে আজ শুধু মাছের খাবারের জন্য খরচ পড়ছে প্রায় ৩০-৩৫ টাকা। আবার অন্যদিকে মুরগির খাবার খরচ যেখানে ছিল কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, সেখানে আজ খরচ হচ্ছে ৩০ টাকা মতন। স্বাভাবিকভাবেই বিনামূল্যে এই প্যালেড ফিড যন্ত্রটি কৃষি দফতরের কাছ থেকে পাবার পর খরচের অঙ্ক এক ধাক্কায় অনেকটাই কমেছে। এমনকি তিনি এই খাবার বিক্রিও করছেন বাইরে। সব মিলিয়ে আজ ভবনাথ মন্ডলের লাভ অন্যান্য কৃষকদের থেকে অনেকটাই ছাপিয়ে গেছে।
ভবশঙ্কর মণ্ডলের এই রঙিন মাছ চাষের অভিজ্ঞতা রয়েছে দীর্ঘ ৮ বছর মতন। কড়কনাথ মুরগি চাষের অভিজ্ঞতা যে খুব কম সেটাও বলা যাবে না। প্রথমদিকে হয়ত এই দুটি ভিন্ন প্রজাতির চাষ নিয়ে একটা দোনামনা থাকলেও পাশে পেয়েছেন কৃষি দফতরের আধিকারিকদের। সঙ্গে প্যালেড ফিড যন্ত্রটি বিনাপয়সায় পেয়েছেন। পরামর্শ শুনে ভবশঙ্করবাবু কাজ করেছেন ভালো রকম। আর যে কারণে আজ তিনি জেলায় একজন প্রগতিশীল কৃষক হিসেবে বেশ সুনাম কুড়িয়ে নিয়েছেন।
প্রসূন ব্যানার্জী
পূর্ব মেদিনীপুর