Story

শীত পড়লেই বাজারের ব্যাগ থেকে উঁকি মারে কপি। মনের মতন সাইজের বাঁধাকপি আর ফুলকপি পেলে মুখে দেখা যায় পরিতৃপ্তির হাসি। কিন্তু হঠাৎ করে যদি আপনার চোখে পড়ে রংবাহারি কপি, তাহলে একটু অবাক তো হবেনই। যে ফুলকপিকে আজীবন সাদা দেখে এলেন, তার এমন রঙের বাহার? হ্যাঁ। ঠিকই ধরেছেন। রংবাহারি এমন কপির চাষ করেই তাক লাগিয়ে দিয়েছেন দুর্গাপুরের কৃষক অভিজিৎ চক্রবর্তী।
বাবার হাত ধরেই তাঁর চাষের কাজে আসা। বাবা গত হওয়ার পর এখন অভিজিতের পরিবারের সকলেই জড়িয়ে পড়েছেন চাষাবাদের সঙ্গে। শীতকালীন সব্জি চাষ তো রয়েছেই। সঙ্গে নতুন সব্জি হিসেবে ব্রোকোলির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হলুদ ও বেগুনি রঙের ফুলকপি। সুদূর নেদারল্যান্ড এবং ফ্রান্সে যার কদর রয়েছে ভালোরকম। কিন্তু সেই ফলন পশ্চিমবাংলায়? কিভাবে সম্ভব হল? এখানেই কৃষক অভিজিৎবাবুকে সাহায্য করেছে ইউটিউব। ডিজিটাল মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন তিনি। কিন্তু কিভাবে এই চাষের সূত্রপাত?
এই বছরে তিনি দেড় হাজার হলুদ ফুলকপি, একহাজার কমলা রঙের ফুলকপি, তিন হাজার ব্রোকলি ও তিন হাজার বেগুনি বাঁধাকপি চাষ করেছেন। রংবাহারি কপি চাষ করতে খরচা পড়ে একটু বেশি। কিন্তু মানুষের মনে যেভাবে চাহিদা বাড়ছে তাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে অভিজিৎবাবুকে।
শুধু ক্রেতা বলে নয়। এখন চাষিদের মধ্যেও রঙিন কপি চাষের আগ্রহ ব্যপক পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে। যেহেতু এই ধরণের রংবাহারি কপির দেখা বাজারে আগে মেলেনি, তাই শীতের মরশুমে দুর্গাপুরবাসীর কাছে হলুদ, বেগুন কপির কদর প্রতিদিনই বাড়ছে। রঙে যেমন নতুনত্ব। স্বাদেও তেমনি। স্বাস্থ্যের জন্যেও বেশ ভালো এই কপি। তাই সবমিলিয়ে বলাই যায় শীতের বাজার এখন গরম রেখেছে নেদারল্যান্ড ও ফ্রান্সের রংবেরঙের কপি।
কাঞ্চন দাস
পশ্চিম বর্ধমান