Story

বড়দিন মানেই আমবাঙালির পাতে ওঠে হরেক রকমের ডেজার্ট। কেক, পেস্ট্রির মত খাবার যেমন বড়দিনের খাদ্যতালিকায় থাকে একেবারে প্রথম সারিতে, তেমনি এই সময় বাংলার নিজস্ব ডেজার্ট মোরব্বার চাহিদাও ওঠে তুঙ্গে। তাই মোরব্বা প্রস্তুতকারীদের নজর থাকে এই সিজনের দিকে।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার আমডাঙা থানার গাদামারা এলাকাটি মোরব্বা তৈরির জন্য বেশ জনপ্রিয়। যেখানে ছোট ফ্যাক্টরি ছাড়াও রয়েছে আরো চারটি কারখানা। ছোট কারখানায় সিজনের সময়টুকুতে মোরব্বা তৈরি হলেও বছরভর কাজ চলে কিন্তু বড় কারখানায়। ৫০ জন মানুষের সংসার চলে এই মোরব্বা তৈরি করেই। পাকা চাল কুমড়ো বা পাকা লাউ স্থানীয় এলাকা থেকে সংগ্রহ করেই চলে মোরব্বা তৈরির কাজ। ফলে যারা লাউ চাষি তাঁরা কিন্তু সবদিক থেকে লাভবান হন। এমনিতে কচি লাউ প্রতি পিস ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করা হলেও, বড় লাউ বিক্রি হয় ১২ থেকে ১৮ টাকা কেজিতে। ফলে লাউচাষিদের ভাগ্যে থাকে ভালোরকম লাভের অঙ্ক।
মোরব্বা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় লাউ কারখানার কর্তৃপক্ষ একেবারে মাঠ থেকে নিয়ে যায় ন্যায্য মূল্যে। তাই লাউ চাষ একদিকে যেমন এনেছে মোরব্বা শিল্পে গতি তেমনি চাষিদের মুখের হাসিও চওড়া করেছে অনেকটাই। লাউ চাষিদের পাশাপাশি কিন্তু মোরব্বা প্রস্তুতকারীদের ব্যস্ততা থাকে তুঙ্গে। মূলত এই সময়। না মেশানো হয় রাসায়নিক। না মেশানো হয় কোনরকম কৃত্রিম রং। ফলে পুষ্টিকর মোরব্বা তৈরির পর তা পৌঁছে যায় বহরমপুর সহ বিভিন্ন কারখানায়।
কী করে তৈরি হয় এই মোরব্বা শুনে নেওয়া যাক মোরব্বা প্রস্তুতকারীর মুখ থেকেই।
মোরব্বার চাহিদা বছরভর সবসময়ই থাকে। তাই মোরব্বা তৈরি করা যেমন লাভজনক। তেমনি লাউ চাষ করেও ভালো লাভ পান কৃষকবন্ধুরা। শীতের সময় মোরব্বার চাহিদা বেশি থাকে বলে এই সময় দম ফেলার ফুরসৎটুকু পান না কেউই। বাংলায় শীত ঢুকলেই কেক, পেস্ট্রির চাহিদা যেমন বাড়ে তেমনি মোরব্বার জোগানও বাড়তে থাকে সমান তালে। সবমিলিয়ে চাষি থেকে ব্যবসায়ী- যারা এই মোরব্বা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের কিন্তু হাসি চওড়া হয় নির্দ্বিধায়। কারণ দিনের শেষে আর্থিক স্বচ্ছলতা দেখায় এই মোরব্বাই।
সুব্রত সরকার
উত্তর ২৪ পরগনা