Daily
সীমান্তে সম্পর্ক উত্তপ্ত। ব্যবসা-বাণিজ্যেও তার প্রভাব প্রত্যক্ষ। ক্রমাগত উস্কানি এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত নীতি লঙ্ঘন করার জন্য আরও একবার বয়কট চাইনার স্লোগান উঠেছে ভারতজুড়ে। কিন্তু চাষআবাদ তো আর বিবাদ মানে না। তাই এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও দেদার চাইনিজ শাকসব্জি চাষে মগ্ন শিলিগুড়ির ফাসিদেওয়ার শিক্ষক, দুলাল ঘোষ। না, বেআইনি ভাবে নয়। বরং ভারতীয় চাষিরা যাতে বিদেশী ফসল চাষ করে লাভবান হতে পারেন, সেই চেষ্টাতেই এই চাষে এগিয়ে আসেন তিনি। বহু আগেই অনলাইনে বিদেশী বীজ অর্ডার করেন দুলাল বাবু। তারপর নিজের শখেই বাড়ির পাশের দেড় বিঘে জমিতে চাষআবাদ শুরু।
রূপনদিঘি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দুলাল বাবু। পেশায় শিক্ষক হলেও, বাড়ি লাগোয়া জমিতে বাঁধাকপি, ফুলকপি, ক্যাপসিকাম ইত্যাদি শীতকালীন ফসল চাষ করেন নিজের নেশাতেই। তবে শুধু শীতকালেই নয়। বারো মাসই চাষের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখেন তিনি। স্কুল টাইমের বাইরে বাকি সময়টুকু কৃষিকাজেই কাটান দুলালবাবু। কিন্তু দেশের মাটিতে বিদেশী ফসল চাষ শুরু কীভাবে? কীভাবে পরিচয় হল চীনা পকচয়, আর্টিচক ইত্যাদি ফসলের সঙ্গে? চলুন, শুরুর গল্পটা বরং ওনার মুখ থেকেই শুনি।
শিক্ষকতার পাশাপাশি যখন চাষআবাদ শুরু করেছেন, তখন নিশ্চয়ই কোন উদ্দেশ্য তো রয়েছেই। উদ্দেশ্য একটাই। তার এলাকার কৃষক ভাইবোনেরা যেন মুনাফার মুখ দেখেন। যে ইনভেস্টমেন্টটা হচ্ছে, তার যোগ্য রিটার্ন যেন সে পায়।
শুরুটা একদম ছোট করে। ভরসা রেখেছেন অরগানিক ফার্মিং-এই। ধীরে ধীরে বাজারে বিদেশী ফসলের চাহিদা বাড়ায় চাষের পরিসর বাড়ান তিনি। বাজারে দামো পাচ্ছিলেন। আর তার চাষ দেখে আগ্রহ পাচ্ছিলেন আশেপাশের চাষিভাইরাও। রেসপন্স পজিটিভ থাকায় বাণিজ্যিকভাবেই শুরু করেন চীনা সবজি চাষ।
মানুষ গড়ার কারিগর হচ্ছেন শিক্ষক। সমাজ গড়ার কারিগর হচ্ছেন শিক্ষক। আর আজ নিজের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই প্রতিটি কথাটা অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনি। চিরাচরিত চাষের বাইরে, আবহাওয়ার অজুহাতকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে তিনি সফল তো বটেই। এলাকার চাষি ভাইদের কথা ভেবে তাঁর এই নবেল কাজ, সত্যিই প্রশংসনীয়। সরকারি সহযোগিতা পেলে হয়তো এই বিদেশী ফসল চাষ করেই আরও উন্নত হতে পারে রূপণদিঘি এলাকার কৃষি অর্থনীতির ছবিটা।
অরূপ পোদ্দার
শিলিগুড়ি