Story
চালের দাম ছুঁয়েছে ২২০ টাকা কেজি। গুঁড়ো দুধ এক কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৯০০ টাকায়। এখানেই শেষ নয়। চিনির দাম ছুঁয়েছে ৪০০ টাকা কেজিতে। শিশুদের খাবারের দাম দিচ্ছে ছেঁকা। ওষুধের দামের নাগাল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। এভাবেই একদিকে হু হু করে দাম বাড়ছে অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের। অন্যদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ঘাটতি। সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার সাধারণ মানুষ এখন ব্যাপক দুর্ভোগে। চরম অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেওয়ায় শ্রীলঙ্কা জুড়ে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। পদত্যাগ করেছেন সেই দেশের ২৬ জন মন্ত্রী। একদিকে জারি কার্ফু, অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ। সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার অবস্থা বেশ টলমল। কিন্তু এই পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কায় তৈরি হল কেন? অনেকেই বলছেন চিনা ঋণের ফাঁদে পড়েই শ্রীলঙ্কার অবস্থা এখন ভাঁড়ে মা ভবানি। সত্যিই কি তাই? চলুন উত্তর খুঁজতে দেখা যাক পুরো প্রতিবেদনটাই।
১৯৪৮ সালে স্বাধীন হয় শ্রীলঙ্কা। দেশটি ব্রিটিশ সরকারের আধিপত্যের হাত থেকে বেরিয়ে আসার পরে নিজের মতন এগিয়ে যাচ্ছিল মসৃণ গতিতে। এরপর কেটে যায় সত্তর বছর। এর মধ্যে এমন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি শ্রীলঙ্কাকে এভাবে কোনদিন পড়তে হয়নি। পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে ২০১৯ এর শেষ থেকে। তখন অতিমারি না এলেও চিনের প্রভাব ক্রমশই চওড়া হতে শুরু করে শ্রীলঙ্কায়। কলম্বোকে একটা বড় অংশ ঋণ নিতে দেখা যায় চিনের থেকে। তবে চিনের এই ঋণ ফাঁদের বিষয়টা শুরু হয়েছে একেবারে অন্য একটি জায়গা থেকে। শ্রীলঙ্কার বন্দরনগরী হাম্বানটোটা। এখানেই গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করতে চায় শ্রীলঙ্কা। কিন্তু বন্দর তৈরি করার মতন আর্থিক ভাবে শক্তিশালী সেই সময় শ্রীলঙ্কা ছিল না। আর তখনই শ্রীলঙ্কাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে চিন। চিনের এক্সিম ব্যাঙ্কের তরফ থেকে বড় অঙ্ক ঋণ নিয়ে তৈরি করা হয় এই সমুদ্র বন্দর। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই শ্রীলঙ্কাকে এই টাকা শোধ করার জন্য চাপ দিতে থাকে চিন। শ্রীলঙ্কা বেশ কয়েকবার পরিশোধের কথা চিন্তা করলেও ব্যর্থ হওয়ার কারণে অবশেষে চিনের একটি কোম্পানি ৯৯ বছরের জন্য লিজ নেয় বন্দরটিকে। বিষয়টা বোঝা গেল?
বিদেশি ঋণের প্রভাব। সঙ্গে চিনের ঋণ ফাঁদ। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কার জন্য। ২০১৯ সালের শেষের দিকে শ্রীলঙ্কার বিদেশি ঋণের অঙ্কটা সেই দেশের জিডিপির ৯৪% এর কাছাকাছি পৌঁছয়। আর ২০২১ এ সেই অঙ্কটাই ছুঁয়ে যায় ১১৯ শতাংশে। তার সঙ্গে সামরিক খাতে শ্রীলঙ্কার ব্যপকভাবে খরচ করার কারণে অর্থনীতির ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে বলে মনে করছেন বহু অর্থনীতিবিদরা।
এদিকে বিদেশি ঋণ নেওয়ার পথ পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে গেলে শ্রীলঙ্কা পড়ে চরম অনিশ্চয়তায়। কিন্তু সেই সময় শ্রীলঙ্কার পাশে একবারের জন্য দাঁড়াতে রাজি হয় না চিন। বরং ঋণ পরিশোধের জন্য চাপ বাড়তে থাকে কলম্বোর উপরে। জিনপিংয়ের সরকার শ্রীলঙ্কাকে উন্নয়নখাতে ৩৫০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছিল। ভারতীয় মুদ্রায় অঙ্কটা ২৬,৫৭৫ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে শ্রীলঙ্কাকে বিদেশি ঋণ সহ শোধ করার অঙ্কটা পৌঁছে গিয়েছে ৬৯০ কোটি ডলারে। কিন্তু শ্রীলঙ্কার কাছে বিদেশি মুদ্রা এই মুহূর্তে কত আছে জানেন? মাত্র ২৩১ কোটি ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় অঙ্কটা মাত্র ১৭,৫৪০ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার শ্রীলঙ্কাকে অর্থসাহায্য করার জন্য ১০০ কোটি ডলারের ঘোষণা করেছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, আদতে এই অঙ্কটা শ্রীলঙ্কার জন্য বর্তমানে বেশ কম।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ