Story

ম্যাপে দেখলে এটা একটা খুব সরু করিডোর বৈ আর কিছুই নয়। কল্পনার মিশেলে সেটাই হয়ে উঠেছে মুরগির ঘাড়। যা শুধু রাজ্যের নয়। বরং গোটা দেশের উইকেস্ট পয়েন্ট বললেও বাড়াবাড়ি হবে না। একইসঙ্গে এই করিডোর হচ্ছে ভারতের অন্যতম ট্রেড রুট। যাকে কব্জা করতে ওত পেতে রয়েছে লাল সেনা বা চীন। কারণ একবার ঘাড় মটকে দিতে পারলেই চীনের জন্য কেল্লা ফতে। কিন্তু সেটাই ভারতের জন্য হবে সবচেয়ে বড় থ্রেট। হ্যাঁ বন্ধুরা। আজ আমরা কথা বলব ভারতের এমন একটা জায়গা নিয়ে যার পোশাকি নাম চিকেন’স নেক বা মুরগির ঘাড় হিসেবে। কিন্তু সবাই একে চেনে শিলিগুড়ি করিডোর হিসেবে। বলা হয়, ভারতের দুর্বলতম জায়গা হচ্ছে নাকি এটাই?
লম্বায় মাত্র ৬০ কিমি। আর চওড়ায় মাত্র ২২ কিমি। স্বল্প দৈর্ঘ্যের এই করিডোরটিই কিন্তু সুবিশাল ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। যার নাম শিলিগুড়ি করিডোর। উত্তর-পূর্বের সমস্ত রাজ্য তো বটেই। এমনকি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার গেটওয়ে হচ্ছে এই করিডোর। ভারতের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ট্রেড করিডোর এটি। শিলিগুড়ি করিডোরকে ঘিরে রেখেছে ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্য এবং অন্যান্য দেশ। এই করিডোরের উত্তরে রয়েছে সিকিম, ভুটান এবং চীন। পশ্চিমে নেপাল। দক্ষিণে বাংলাদেশ। আর পূর্বে রয়েছে অসম। ব্রিটিশদের হাত ধরে এই করিডোর ওপেন করা হয় ১৯৪৭ সালে। ভারত ভাগ করার পরে বাংলাদেশ পশ্চিম পাকিস্তানের হাতে চলে যায়। আর এই পরিস্থিতিতেই উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ব্রিজ তৈরি করার জন্য তৈরি করা হয় এই করিডোরটি।
তিব্বতের চুম্বি ভ্যালি থেকে শিলিগুড়ি করিডোরের দূরত্ব মাত্র ১৩০ কিমি। এই চুম্বি ভ্যালিতেই রয়েছে ভারত, ভুটান এবং চীনের ট্রাই জংশন। যা ডোকলাম রিজিওন নামে বিখ্যাত। চিনা সেনাদের এই করিডোরকে ঘিরে ফেলার জন্য তাই একটা দারুণ সুযোগ তৈরি হয়ে গিয়েছে। চীন এমনিতেই অরুণাচল প্রদেশের একটা বিস্তীর্ণ অংশকে দক্ষিণ তিব্বত বলে দাবি করে থাকে। তাই এই করিডোর নিজেদের দখলে আনার জন্য মুখিয়ে রয়েছে চীন। খুব সহজেই চিনারা গোলাবর্ষণ করতে পারে এবং ঘাড় মটকে উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক চিরতরে ভেঙ্গে ভারতকে পঙ্গুও করে দিতে পারে। শিলিগুড়ি করিডোর যদি চীন নিজেদের হাতে নিতে পারে তাহলে উত্তরপূর্ব ভারতের ৫ কোটি মানুষের সঙ্গে পুরোপুরিভাবে যাবতীয় সম্পর্ক ভেঙ্গে তো যাবেই। একইসঙ্গে ব্যবসায়িক দিক থেকেও চরম ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে ভারতকে। তখন ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিকে চীনের দখল নিতে কোন অসুবিধাই হবে না।
তবে হ্যাঁ। চীনের নজর যে এই শিলিগুড়ি করিডোরের দিকে রয়েছে সেই বিষয়টা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। বলা হচ্ছে, চুম্বি উপত্যকা থেকে পাঁচটি প্রাকৃতিক গিরিপথের মাধ্যমে চীনের সেনারা যদি ঢোকার চেষ্টা করেও তাহলে হিমালয়ের এই দুর্গম এলাকাতেও প্রস্তুত রয়েছে সেনাবাহিনী। এদিকে ভারতের সঙ্গে ভুটানের সম্পর্ক খুবই ভালো। ফলে আশঙ্কা থাকলেও সবদিক থেকেই প্রস্তুত আছে ভারত। ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক একেবারেই ভালো নয়। এদিকে শিলিগুড়ি করিডোর নিয়ে চীন ধীরে ধীরে ঘুঁটি সাজানোর প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। বাংলাদেশ সহ নেপাল, ভুটানেও চীন বিভিন্ন দিক থেকে ঢালাও বিনিয়োগের মাধ্যমে ভারতকে রাখতে চাইছে চাপে। আন্তর্জাতিক বর্ডারেও ভারতের সঙ্গে চীন বেশ কয়েকবার মুখোমুখি সংঘর্ষেও জড়িয়েছে। সব মিলিয়ে একটা ঠাণ্ডা যুদ্ধ বহাল রয়েছে দু’দেশের তরফেই। তাই কোনরকম ঝুঁকি নেওয়ার পক্ষপাতী নয় কেন্দ্রীয় সরকার। চীনের সঙ্গে ভারত সদাহাস্য সম্পর্ক ধরে রেখেও নিজেদের সবসময়ের জন্য প্রস্তুত রেখেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ