Story
প্রথাগতভাবে চাষ করতেন টোম্যাটোর। তার সঙ্গেই লাগিয়েছিলেন চেরি টোম্যাটোর চারা। গাছে যখন ফলন এলো ভরপুর, তখন ফেসবুকে সেই ভরা ফলনের একটি ছবি পোস্ট করেন হাওড়ার কৃষক সুজয় বেরা। তারপরেই অপ্রত্যাশিতভাবে আসতে থাকল অর্ডার। বুঝতে পারলেন চেরি টোম্যাটোর চাহিদা কিন্তু বেশ ভালো। এখন যেভাবে তিনি চেরি টোম্যাটো চাষে মনযোগী হয়েছেন তাতে এমনি টোম্যাটোর থেকে অনেক বেশি লাভ করবেন বলেই আশাবাদী সুজয়বাবু।
হাওড়া জেলার বাগনানের কৃষক সুজয় বেরা দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন। সাধারণ সব্জি চাষের পাশাপাশি পলি হাউজের ভিতরে অসময়ের সব্জিও দারুণভাবে চাষ করছেন তিনি। তেমনি একটি চাষ হল এই চেরি টোম্যাটো। সাধারণ টোম্যাটোর মত চাষ পদ্ধতিতেও তেমন একটা ফারাক নেই। চারার দাম একটু বেশি। এছাড়া মোটের উপর খরচা, পরিশ্রম একই। কিন্তু লাভের মার্জিন চেরি টোম্যাটোর ক্ষেত্রে অনেকটাই বেশি।
সাধারণ টোম্যাটোর থেকে এই গাছ চাষ করলে লাভ বেশি থাকে অনেকটাই। এমনিতে এই গাছের ফলন, বৃদ্ধিতে তেমন একটা সমস্যার মুখে পড়তে হয় না চাষিকে। গাছটি এমনিতেও শক্তিশালী। ধরে না তেমন একটা রোগ। ফলে ঠিকঠাক চাষ করলে যে এই গাছ লম্বা রেসের ঘোড়া হবে, তা নিয়ে দ্বিমত থাকার কথাই নয়।
স্বাভাবিকভাবেই চেরি টোম্যাটো চাষ করে যেভাবে সুজয়বাবু একটা নজির তৈরি করেছেন তা কৃষকদের পাশাপাশি অন্যান্যদেরও নজর কেড়ে নিয়েছে। অনেকেই এখন সুজয়বাবুর কাছে চেরি টোম্যাটো চাষের ছবিটা নিজের চোখে দেখতে আসছেন। তেমনি একজন হলেন স্কুল শিক্ষিকা। যিনি স্বচক্ষে শুধু দেখলেনই না। টেস্টও করলেন সেই চেরি টোম্যাটো।
সুজয়বাবু যেভাবে এই চেরি টোম্যাটো চাষ করছেন তা আরেকজন কৃষকের কাছে নিঃসন্দেহে শিক্ষণীয় একটি বিষয়। আজ সুজয়বাবুর থেকেই পরামর্শ নিতে বাগানে আসছেন কৃষকরা। নিয়ে যাচ্ছেন সবধরণের টিপস।
খোলা বাজারে এই চেরি টোম্যাটোর চাহিদা তেমন একটা না থাকলেও কলকাতার কোলে মার্কেট সহ শপিং মল অথবা বড় বড় হোটেলে চেরি টোম্যাটোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে বিকল্প পদ্ধতিতে চেরি টোম্যাটো চাষ করেও যে একজন কৃষক এভাবে লাভের অঙ্ক এতটা বাড়াতে পারবেন তারই এক জলজ্যান্ত উদাহরণ হাওড়া জেলার বাগনানের কৃষক সুজয় বেরা নিজেই। তাই কৃষি দফতরের ধারণা সুজয় বাবুর এই চেরি টোম্যাটো চাষ অবশ্যই জেলার অন্যান্য কৃষকদেরও যথেষ্ট উৎসাহিত করবে।
দেবস্মিতা মণ্ডল
হাওড়া