Story
আলোয় সাজছে শহর। নিজের বাড়িটাও আলোয় সাজিয়ে তোলার ইচ্ছে হয়- হাজার হোক আলোর উৎসব বলে কথা! পকেটের চাপের কথা ভেবে আপনার একটাই একপেক্টেশন থাকে- সস্তায় পুষ্টিকর হওয়া চাই। চলে যান উত্তর কলকাতার সবচেয়ে পুরনো এই বাজারে। নাম চাঁদনী মার্কেট।
সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যারের-আলপিন থেকে এলিফ্যান্ট পাওয়া যায় কলকাতার এই বাজারে। আর দীপাবলির সময় আলোর বাজার। পা ফেলার জায়গাটুকু নেই। দোকানে গিয়ে বলতে হবে শুধু বাজেট কত?- সঙ্গে সঙ্গে আপনার সামনে হাজির হয়ে যাবে ৫০ থেকে ৫০০ টাকা অবধি লাইটের ভ্যারাইটি। একেবারে সস্তায়।
হাজারের ওপর ভ্যারাইটি। দোকানের সামনে গিয়ে শুধু বলার অপেক্ষা। ব্যাস! আপনার চাহিদা অনুযায়ী কমপক্ষে ৫/৬ রকমের লাইট তুলে ধরবেন সেখানকার বিক্রেতারা। সকালে যেই মডেলটা বিক্রি হয়ে যাচ্ছে, বিকেলের মধ্যে আবার সেটা মার্কেটে চলে আসছে। ডিম্যান্ডটা বুঝতে পারছেন?
দীপাবলির সময় বিক্রি তো রেকর্ড। কিন্তু সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং বিষয় হচ্ছে এখানকার বিক্রেতাদের মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি। অবাক করে দেবে আপনাকে। না! ওদের কারও কাছেই মার্কেটিং ইন্সটিটিউশনের ডিগ্রি নেই। কিন্তু বিশ্বাস করুন এদের মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির কাছে বড় বড় ডিগ্রিধারী মানুষজনও ডাহা ফেল।
এনারা কেউই কোটিপতি নন। কিন্তু প্রতিবছর দীপাবলিকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হয় এই ব্যবসায়ীদের জন্যই। আর এভাবেই ফি বছর শহরবাজির বাড়িতে বাড়িতে আলো জ্বালান তারা। কলকাতার অর্থনৈতিক মানচিত্রে দাগ রেখে যান তারা। এবং অদ্ভুতভাবেই এ শহরের সবচেয়ে আন্ডাররেটেড ব্যবসায়ী এনারাই।
সুব্রত সরকার
কোলকাতা