Market
বি পি এন ডেস্কঃ দেশবাসীর হা-হুতাশ তাঁদের কান পর্যন্ত পৌঁছলেও, কাজের কাজ কিছু হয় নি। তেলের দাম বাড়তে বাড়তে একরকম তা সাধারণের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখেও কেন্দ্রের তরফ থেকে মেলেনি কোন সমাধানের পথ। এদিকে তেলের দাম বাড়ায় বাজার থেকে পরিবহণ- সবজায়গায় রীতিমত ছ্যাঁকা খাবার মত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে তেল যখন ঘুম কেড়েছে আমজনতার তখন রাজকোষ উঠেছে ফুলেফেঁপে। তেল থেকে আদায় করা শুল্কের অঙ্ক ঘরের মধ্যে ঢুকিয়ে। যার ফলে জানা গেছে, পেট্রোল-ডিজেল থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় এক লাফে বেড়ে হয়েছে ৩০০%। কারণ, উৎপাদন শুল্কের একটানা বৃদ্ধি।
সম্প্রতি অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর জানিয়েছেন, কিভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে রাজকোষ শুল্কের অঙ্কে ভরে উঠেছে। ২০১৪-১৫’য় মোদী সরকারের প্রথম অর্থবর্ষে পেট্রোল, ডিজেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৪,১৫৮ কোটি টাকা। কর সংগ্রহের পরিমাণ ছিল সেইসময়ে মোট রাজস্বের ৫.৪%। ২০২০-২১ অর্থবর্ষের প্রথম ১০ মাসে সেই আয় একধাক্কায় বেড়ে হয়েছে ২.৯৪ লক্ষ কোটি টাকা। কর সংগ্রহ বেড়ে হয়েছে ১২.২%।
অর্থমন্ত্রী থেকে তেলমন্ত্রী প্রত্যেককেই বারবার আমজনতার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে। কিন্তু তাঁরা দামবৃদ্ধির দায় চাপিয়েছেন বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম চড়াকে। তাহলে, শুল্ক কমানোর পথে কেন হাঁটল না মোদী সরকার? সমাধানের পথ দেখানোর জন্য কেন্দ্র আঙুল তুলেছে রাজ্যের দিকে। রাজ্যকে শুল্ক কমানোর উপদেশ দিলেও নিজের জায়গা থেকে একচুলও সরেনি কেন্দ্র। তাহলে কি সুরাহা নেই?
সরকারি সূত্রের একাংশ জানাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ সহ আগামী পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন আছে। তখনই তুরুপের তাস হিসেবে হয়ত তেলের দাম কমানোকেই ব্যবহার করবে কেন্দ্র। এভাবেই আমজনতার আস্থা কুড়িয়ে নির্বাচনে জয়লাভের পথ পরিষ্কার করে রাখবে মোদী ক্যাবিনেট।