Story
খাই খাই কর কেন, এস বস আহারে
খাওয়াব আজব খাওয়া, ভোজ কয় যাহারে।
সত্যিই তো খাবার তো কখনই নিয়ম মেনে, প্রথা মেনে হয় না। খাবার, খাবার। খাদ্যরসিকের কাছে কি প্রাচ্য আর কি পাশ্চাত্য? সব খাবারই মুখে জল এনে দেয়। আজব খাবার খেয়েও তারা স্বচ্ছন্দে ভূরিভোজ করতে পারে। আর সত্যি বলতে খাবার তো শুধু খিদে মেটায় না। বরং বিভিন্ন কালচারকে এক সুতোয় বাঁধতে পারে খাবার। তাই খাবার নিয়ে মানুষের এক্সপেরিমেন্ট কম নয়। কিন্তু তাই বলে যদি শোনেন, ৫০ গ্রামের একটি খাবার কিনতে গেলে মিনিমাম ১৮০০ মার্কিন ডলার খরচ করতে হবে তাহলে তো সেটা ভাবনারই বিষয়। কারণ কী এমন সেই খাবার যার দাম হতে পারে এতটাই আকাশছোঁয়া? চলুন আজ বরং একটু স্বাদ বদলানো যাক। আজ আমরা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করব পৃথিবীর সবচেয়ে দামি খাবারগুলোর একটি নিয়ে। যার নাম ক্যাভিয়ার।
স্বয়ং শেক্সপীয়র হ্যামলেটে ক্যাভিয়ারের নামটি লিখে গেছেন। এমনকি পশ্চিম ইউরোপে ষোড়শ সাল থেকে এই ক্যাভিয়ার খাওয়ার চল ছিল। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজ সেই ক্যাভিয়ার হয়ে উঠেছে ধনীদের খাবার। কিন্তু এই ক্যাভিয়ার আসলে কি? ক্যাভিয়ার আসলে হল, স্টার্জন প্রজাতির মাছের আনফার্টলাইজড ডিম। যা নুন বা সামান্য মশলা মিশিয়ে বিভিন্ন রেস্তরাঁয় সার্ভ করা হয়। প্রায় ২৬ প্রজাতির স্টার্জন মাছ দেখতে পাওয়া যায়। মাছের ধরণের উপর নির্ভর করে সেই মাছের ক্যাভিয়ারের দাম কত হতে পারে। কালো, কমলা, হাল্কা হলুদ, গাঢ় হলুদ বিভিন্ন ধরণের ক্যাভিয়ার রয়েছে। তবে কালো রঙের ক্যাভিয়ারের জনপ্রিয়তাই সবচেয়ে বেশি। বেলুগা ক্যাভিয়ার এর মধ্যে অন্যতম।
মূলত কাস্পিয়ান সাগর এবং কৃষ্ণ সাগরে এই বেলুগা ক্যাভিয়ার পাওয়া গেলেও এখন অনেক জায়গাতেই ক্যাভিয়ার চাষ করা হচ্ছে। ইরান, রাশিয়া, আজারবাইজান, উত্তর আমেরিকা, ইজরায়েল, স্পেনের মত দেশ এখন ক্যাভিয়ার এক্সপোর্ট করছে। একটা সময় রাশিয়াতে ক্যাভিয়ার ছিল জেলেদের খাবার। ক্যাভিয়ারকে খুব সাধারণ মূল্যের একটি খাবার হিসেবে মনে করা হত। কিন্তু যত সময় এগিয়েছে ততই ক্যাভিয়ার খাদ্যতালিকায় ওপরের সারিতে উঠে আসে। তার জন্য অবশ্য মনে করা হয়, উনিশ শতকের পর থেকে স্টার্জন প্রজাতির মাছের সংখ্যা বেশ কমে আসে। চাহিদা মতন জোগানের অভাব তৈরি হওয়ায় ক্যাভিয়ারের দাম বাড়ে অনেকটাই। তারপর ক্রমশই ক্যাভিয়ার ধনীদের খাদ্য তালিকায় ঢুকে পড়ে। স্টার্জন প্রজাতির মাছটি থাকে মূলত সাগরেই। তবে শীতকালের একটি নির্দিষ্ট সময় প্রজননের জন্য এরা মোহনায় আসে। একেকবারে কয়েক মিলিয়ন ক্যাভিয়ার পাওয়া যায় স্টার্জন প্রজাতির মাছের থেকে। এই স্টার্জন প্রজাতির একেকটি মাছের ওজন হতে পারে ১ হাজার কেজি পর্যন্ত। ওজনের ১২ শতাংশ আসে এই ক্যাভিয়ার থেকেই। আর খাওয়ার জন্য একটি স্টার্জন মাছ থেকে ডিম পেতে সময় লেগে যেতে পারে ৮ থেকে ১০ বছর। বর্তমানে বিভিন্ন রেস্তরাঁয় ক্যাভিয়ার সার্ভ করা হয় সোনার বাক্স বা মুক্তোর দানায়। বলা হয় ১ কেজি ক্যাভিয়ারের দাম পৌঁছে যেতে পারে প্রায় ২৬ লক্ষ টাকায়।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর এই ক্যাভিয়ার শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। রক্ত সরবরাহ থেকে হাড় শক্তিশালী করা, হতাশা দূরীকরণ, রক্ত জমাটে বাধা দেওয়া ছাড়াও এই ক্যাভিয়ার থাইরয়েডের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাভিয়ারে থাকে ভিটামিন সি, ই এবং এ। বর্তমানে বিশ্বে ক্যাভিয়ারের ৩৫ শতাংশ জোগান দিচ্ছে চীন। তাহলেই বুঝুন, কিভাবে একটি খাবার দরিদ্র মানুষের খাদ্য তালিকা থেকে একেবারে সরে গিয়ে ধনীদের খাদ্য তালিকায় ঢুকে পড়ল?
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ