Daily
বি পি এন ডেস্কঃ পাহাড়ের কোলে ছোট ছোট গ্রাম। ছবির মত। যেখানে উপদ্রব নেই, ভিড় নেই, মানুষের কোলাহল নেই। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় যেন শান্তির সঙ্গে মানুষের সহাবস্থান হয়েছে গ্রামে। কিন্তু প্রদীপের নিচেই যে অন্ধকার।
পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়। শিমুল, পলাশের একচ্ছত্র বাসস্থান সেখানে। সবুজ চাদরে মোড়া অযোধ্যার পাহাড়ে দেশ, বিদেশ থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন বিভিন্ন সময়ে। পর্যটনের খাতিরে গড়ে উঠেছে বিলাসবহুল হোটেল, লজ।উন্নয়নেরছোঁয়ালেগেঅযোধ্যাপাহাড়েতৈরিহয়েছেপূর্বভারতেরবৃহত্তমজলবিদ্যুৎপ্রকল্প।
সব থেকেও তবু সর্বহারা গ্রামের আদিবাসী মানুষগুলো। তাঁরা না পেয়েছেন জল, না পেয়েছেন বিদ্যুৎ। নেই রাস্তা, নেই কুয়ো, নেই নলকূপ, নেই কচিকাঁচাদের জন্য একটি স্কুলও। গ্রামবাসীদের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে খাটিয়াই ভরসা। লম্বা পথ পাড়ি দিতে হয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছনর জন্য। একইভাবে পানীয় জলের সুরাহা পেতে হেঁটে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। অযোধ্যা পাহাড়ের কোলে গন্ধুডী এমনই একটি গ্রাম। ‘নেই’ এরতালিকাদীর্ঘহওয়ায়গন্ধুডীরমতপাহাড়তলিরগ্রামেরমানুষগুলোরমধ্যেরয়েগেছেক্ষোভ।
গাছ কেটে কাঠ বিক্রি করেই চালাতে হয় পেট, মেটাতে হয় খিদে। কারণ আয়ের যে অন্য কোন রাস্তাও নেই। মাথার ঘাম পায়ে ঝরিয়ে মুখ বুজে চলে পেট ভরাবার সংগ্রাম। এদিকে বছরের পর বছর ধরে জঙ্গলের গাছ কাটার জন্য নষ্ট হচ্ছে প্রকৃতির সৌন্দর্য। দীর্ঘ বাম জমানার শেষে অযোধ্যার এই প্রান্তিক মানুষগুলোর জন্য একগুচ্ছ সরকারি প্রকল্পের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সবই এখন বিশ বাঁও জলে। তবু নির্বাচন এলেই নেতারা ছুটে আসেন এদের কাছে প্রতিশ্রুতির ঝুলি ভর্তি করে। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁরা আদায় করে নেন প্রান্তিক মানুষগুলোর ভোট। সব মিটে গেলে ওরা যে তিমিরে, সেই তিমিরেই পড়ে থাকেন। কোন আর্থ–সামাজিক উন্নতি হয় না। সকল প্রতিশ্রুতি মিথ্যা হয়ে যায়। এভাবেই নির্বাচন আসে, নির্বাচন যায়। কত রাজনৈতিক পালা বদল হয়। তবু সংগ্রাম কমে না। আসলে কেউ মনেই রাখে না পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের প্রান্তিক মানুষগুলোকে।
পুরুলিয়া থেকে জয়প্রকাশ কুইরির রিপোর্ট