Trending

একদিকে যখন এয়ারটেল, জিও-র মুহুর্মুহু প্ল্যানের মূল্যবৃদ্ধি পকেট ফাঁকা করে দিচ্ছে, তখন বিএসএনএলের হয়ত বা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা মসৃণ হচ্ছে। হয়ত এখনই তৈরি হয়ে গিয়েছে সেরা সুযোগ। কারণ এবার বিএসএনএল ২৪৯ টাকায় যে প্ল্যান নিয়ে এসেছে, সেটা সাধারণ মানুষের জন্য অনেকটাই স্বস্তির। চর্চাও হচ্ছে সর্বত্র। আর সেটা দেখেই মনে হচ্ছে বিএসএনএল তার মৃতসঞ্জীবনী ওষুধটি হয়ত পেয়ে গেছে। ২৪৯ টাকায় ৪৫ দিনের ভ্যালিডিটি দিচ্ছে বিএসএনএল। প্রতিদিন গ্রাহকরা ২ জিবি করে ডেটা পাবেন। অর্থাৎ সেই হিসেবে ৪৫ দিনে একজন বিএসএনএল গ্রাহক পাবেন ৯০ জিবি ডেটা। একইসঙ্গে প্রতিদিন ১০০টি এসএমএস করতে পাবেন বিএসএনএল গ্রাহকরা। একইসঙ্গে মিলবে আনলিমিটেড ফ্রি কলিং এর সুবিধা। আর যদি পরিষেবার কথা বলতেই হয় তাহলে বলতে হবে বিএসএনএল নিঃসন্দেহে খুব বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। যেখানে সাহায্য করছে টাটা গ্রুপ। প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার ডিল হচ্ছে টাটার সঙ্গে বিএসএনএলের। এক সুবিশাল ডেটা সেন্টার তৈরি করবে বিএসএনএল। তারপরেই মনে করা হচ্ছে, বিএসএনএল যেভাবে রিচার্জ প্ল্যানের দাম বেঁধে রেখেছে তারপর পরিষেবা ঠিকঠাক পেলে এয়ারটেল, জিও-র মত বেসরকারি কোম্পানির ভবিষ্যতে কিন্তু খাঁড়া ঝুলছে। কেন বললাম?
এয়ারটেল নিজের ২০৯ টাকার প্ল্যান ৩ জুলাই থেকে বাড়িয়ে করেছে ২৪৯ টাকা। তবে সেই ভ্যালিডিটি ২৮ দিনের জন্য। প্রতিদিন পাওয়া যাবে ১ জিবি করে ডেটা। তবে হ্যাঁ, আনলিমিটেড ভয়েস কলিং এর সুবিধা তারা দিচ্ছে। একইভাবে জিও ২০৯ টাকার প্ল্যান বাড়িয়ে করেছে ২৪৯ টাকা। সেটারও ভ্যালিডিটি রাখা হয়েছে ২৮ দিন পর্যন্ত। আবার একইসঙ্গে প্রতিদিন মিলবে ১ জিবি করে ডেটা। সঙ্গে আনলিমিটেড ফ্রি কলিং এর সুবিধাও তারা দিচ্ছে। আর দিচ্ছে প্রতিদিন ১০০ টি এসএমএসের সুবিধা। একইভাবে ভোডাফোন আইডিয়া ২৭৯ টাকার প্ল্যান বাড়িয়ে করে দিয়েছে ২৯৯ টাকা। এই প্ল্যানের ভ্যালিডিটি রাখা হয়েছে ২৮ দিন। সঙ্গে প্রতিদিন পাওয়া যাবে ১ জিবি করে ডেটা। আর এগুলো দেখে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে বিএসএনএল যে দামে এই প্ল্যান দিচ্ছে সেই দামে আর কোন টেলিকম সংস্থাই দিতে পারছে না। ২৪৯ টাকার সস্তা প্ল্যান বিএসএনএলের জন্য গেম চেঞ্জার হতে পারে।
আমাদের দেশে একটা বড় অংশের মানুষ এখনো সস্তার প্ল্যানে ভরসা রাখেন। একদিকে যখন এয়ারটেল, জিও-র দাদাগিরি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে তখন বিএসএনএলের এই সস্তা প্ল্যান সাধারণ মানুষের কাছে অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। আমরা যদি ট্রাই-এর তথ্য ধরি তাহলে বিএসএনএল এখন দেশের চতুর্থ বৃহত্তম টেলিকম কোম্পানি। দেশে রিলায়েন্স জিও-র মার্কেট শেয়ার রয়েছে ৪০.৩ শতাংশ, এয়ারটেলের মার্কেট শেয়ার রয়েছে ৩৩.১ শতাংশ, ভোডাফোন আইডিয়ার মার্কেট শেয়ার রয়েছে ১৮.৮ শতাংশ এবং বিএসএনএলের রয়েছে মাত্র ৭.৪৬ শতাংশ। হিসেব মত বিএসএনএল এখন চতুর্থ বৃহত্তম টেলিকম সংস্থা। মার্কেট অ্যানালিস্টরা বলছেন, যারা কম দামি প্ল্যানে সবসময় ভরসা রাখেন, তাঁদের দিকেই ফোকাস করতে পারে বিএসএনএল। টাটার হাত ধরে এবার বিএসএনএল চাইছে অন্তত ১ হাজার গ্রামে নিজেদের কানেক্টিভিটি ছড়িয়ে দিতে। আর তাহলেই ভালোরকম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে এয়ারটেল, জিও-র মত বেসরকারি কোম্পানিগুলি। তবে হ্যাঁ, খুব দ্রুত ৫জি নিয়ে আসার পরামর্শ বিএসএনএলকে দিচ্ছেন মার্কেট অ্যানালিস্টরা। আপনি কি নিজে বিএসএনএলের গ্রাহক হতে চান, তাও এতো কম দামে জানান কমেন্ট বক্সে। সঙ্গে লাইক করুন, শেয়ার করুন।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ