Trending
কোলকাতায় তারাতলার কোম্পানিতে তালা ঝুলিয়েছে ব্রিটানিয়া। বাংলা ছাড়ার আগেই প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চলেছে নামজাদা এই বিস্কুট প্রস্তুতকারক সংস্থা। বাঙ্গালার স্বার্থে বিনিয়োগ নাকি বাংলা ছাড়ার খোরপোশ? উঠছে প্রশ্ন।
কোলকাতার কারখানা বন্ধ মানেই বাংলা ছাড়েনি ব্রিটানিয়া। কোলকাতা ছাড়ার আগেই বিরাট সিদ্ধান্ত ব্রিটানিয়ার। বাংলার বুকে মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চলেছে সংস্থাটি। প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করতে চলেছে ব্রিটানিয়া। রাজ্যের স্বার্থে বিনিয়োগ নাকি রাজ্য ছাড়ার খোরপোশ কোনটা?
বেশিদিন না। এই মাত্র ২/৩ দিন আগেই তারাতলায় ব্রিটানিয়ার কোম্পানিতে তালা ঝোলায় তোলপাড় পড়ে যায় বাংলাজুড়ে। কারখানা বন্ধ হওয়ার খবরে দিশেহারা হয়ে যান কর্মীরা। আর এইমধ্যেই সুখবর শোনাল সংস্তাহতি। কবে, কীসে এবং কেন এই সিদ্ধান্ত? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
ওয়াদিয়া গ্রুপের ব্রিটানিয়া। আর যতবার বাংলার বুকে ব্রিটানিয়ার নাম উঠবে ততবার এর সঙ্গে আরও একটা কোম্পানির নাম উঠবে। আর সেটা হচ্ছে গ্যাঞ্জেস ভ্যালি। যে কোম্পানির মাথা হচ্ছেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর ছেলে চন্দন বসু। মেইনলি ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত এই কোম্পানিটি।
২০০৮ সালে টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রকাশিত একটি তথ্য বলছে, পশ্চিমবঙ্গের বুকে ব্রিটানিয়া, গ্যাঞ্জেস ভ্যালির সঙ্গে কন্ট্রাকচুয়াল ম্যানুয়াকচারিং-এর পথে হাঁটতে চলেছে। অর্থাৎ দুটো সংস্থা একসঙ্গে প্রোডাক্ট তৈরি করবে। ব্রিটানিয়া একটা বড়ো ব্র্যান্ড, পরিচিতিও ব্যাপক। তাই ব্রিটানিয়ার নামেই সেই প্রোডাক্ট সেল করা হবে। গ্যাঞ্জেস ভ্যালি কোম্পানির বেশ কিছুটা শেয়ার সেই সময় তারা কিনে নেয়। দুই সংস্থা যৌথভাবে কাজ করবে বলে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। যদিও ১৯৯৭ সাল থেকেই এই চুক্তি বহাল দুই কোম্পানির মধ্যে।
গ্যাঞ্জেস ভ্যালির প্লান্ট থেকে জয়েন্ট ভেঞ্চারে ম্যানুফ্যাকচারিং চলে। আর এই ফ্যাক্টরিটি রয়েছে ডানকুনিতে। যেটা কিন্তু এখনও বন্ধ হয়নি। শুধু বাংলা বলে নয়, অনেক জায়গাতেই জয়েন্ট ভেঞ্চারিং-এর মাধ্যমে ম্যানুফ্যাকচারিং করছে ব্রিটানিয়া। আর সেই জন্যেই কোলকাতা মুম্বই সহ অনেক জায়গাতেই নিজেদের পুরনো বহু কারখানা বন্ধ করছে ব্রিটানিয়া। আর ব্রিটানিয়ার তারাতলার এই ফ্যাক্টরি তাদের সেকন্ড ওল্ডেস্ট।
আপনারা অনেকেই জানেন যে, তারাতলার ব্রিটানিয়া কোম্পানি তার কর্মীদের ভিআরএস অফার করেছিল। তার অন্যতম কারণ এটাই যে কম্পানিটি তার পুরনো কিছু কারখানা শাট ডাউন করতে চলেছে। তারাতলায় ব্রিটানিয়ার যে ১১ একর জমিটি ছিল, সেটি বেসিক্যালি পোর্টট্রাস্টের জমি। এমনিতেই কোলকাতা পোর্টট্রাস্ট তার জমিগুলিকে নতুনভাবে সাজাতে চাইছে। হয়তো তারাতলার এই ১১ একর জমিও তাদের সেই ভাবনাচিন্তার মধ্যে রয়েছে। আর তাছাড়া পোর্টট্রাস্টের এই জমি ২৪ বছরের জন্য লিজ নেওয়া ছিল। আর লিজের মেয়াদ শেষ হলে জমি ছেড়ে দিতেই হত।
এই মুহূর্তে ব্রিটানিয়া সল ম্যানুফ্যাকচারিং না করলেও জয়েন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং বল্ধ করছে না। তাই ব্রিটানিয়া বাংলা থেকে পাত্তারি গুটিয়ে চলে জাছে, এই তথ্য ভুয়ো। আর তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গ হচ্ছে ব্রিটানিয়া কোম্পানির অন্যতম বড়ো কঞ্জিউমার মার্কেট। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৯০০ কোটি টাকা রেভিনিউ জেনারেট করে সংস্থাটি। আর এত বড়ো মার্কেট কেউ হাতছাড়া কেনই বা করতে চাইবে? তাছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের বুকে তারা এবার প্রায় ৩০০-৩৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার কথাও ভাবছে। স্টেটমেন্ট দিয়ে জানিয়েছে সংস্থাটি। মূলত লজিস্টিক এবং সেলসের দিকেই এই ইনভেস্টমেন্টের প্ল্যানিং রয়েছে তাদের।
ব্রিটানিয়া বিস্কুটের প্যাকেট যদি ভালো করে খেয়াল করে থাকেন তাহলে দেখবেন লেখা রয়েছে যে প্রোডাক্টটি ব্রিটানিয়ার মাধ্যমে মার্কেট করা হয়। কিন্তু অন্য কোম্পানির থেকে ম্যানুফ্যাকচার করা হয়। আর তারাতলার ঐ জমি এক না একদিন যাওয়ার ছিলই। কিন্তু এরফলে বহু মানুষ যে কর্মহীন হয়েছেন, সেটা সত্যি। এবং এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনাই। তবে এটা একান্তই কোম্পানির সিদ্ধান্ত। কাজেই এখানে রাজনৈতিক অভিসন্ধি খোঁজাটা কতটা যুক্তিযুক্ত, সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ।
সঙ্গে থাকুন দেখতে থাকুন বিজনেস প্রাইম নিউজ। জীবন হোক অর্থবহ।