Trending
দৃশ্য মানচিত্রে আর চলবে না, আমেরিকান ডলারে দাদাগিরি।, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রকাশ্যয়ে এলো নতুন BRICS নোট। নেপথ্যে ভারত চীন ও রাশিয়া। আগের প্রতিবেদনে আমরা আপনাদের বলেছিলাম, বিশ্ব মানচিত্র মহাজোট। ঘুম উড়ছে আমেরিকার। আজকের প্রতিবেদনে আপনাদের দেখাবো, আমেরিকার ঘুমরবার অন্যতম প্রধান একটি কারণ। আর সেই কারণটি হল ডলার। ডলার অর্থাৎ আমেরিকার মুদ্রা। । এই আমেরিকান মুদ্রা ডলারের উপর ভিত্তি করেই গোটা বিশ্বে দশকের পর দশক ধরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের দাদাগিরি চালাচ্ছে আমেরিকা। এবার কি তবে সমাপ্ত হতে চলেছে ডলারের দাদাগির ? দেখুন শেষ পর্যন্ত।
সদ্য চলতি বছরের BRICS সম্মেলনে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছিল। এই ছবিটিতে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, রাশিয়া প্রধান ভ্লাদিমির পুতিন হাতে একটি বিশেষ নোট ধরে রয়েছেন। জানেন কি এই নোটের পরিচয় ? এই নোটটি BRICS কারেন্সি নামে পরিচিত। আর এই নতুন BRICS কারেন্সি পাশ্চাত্যের দেশ গুলির কাছে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে।আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এখনো পর্যন্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে যে আভ্যন্তরীণ বাণিজ্য সংঘটিত হয় তার ডলারের বিনিময় হয়ে থাকে। দুটি দেশের মধ্যেকার ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানির রপ্তানির সর্বক্ষেত্রেই তাদেরকে এই ডলারের উপর নির্ভর হতে হয়। যার জেরে ক্রমেই দামি হতে থাকে এই ডলার এবং আর্থিক ভাবে লাভবান হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আরে এই নতুন BRICS মুদ্রকে কার্যকর করতে চাইছে প্রাচ্যের দেশগুলো। আমেরিকার পরেই পৃথিবীতে যে দেশগুলো মূলত শক্তিশালী, তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চীন, রাশিয়া এবং ভারত। আপনারা সবাই জানেন ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার সুমধুর সম্পর্ক নতুন নয়। আবার রাশিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।মাঝখান থেকে সীমান্ত জনিত বেশ কিছু সমস্যার জন্য ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক নিয়ে নানান রকম প্রশ্ন চিহ্ন উঠে আসে। কিন্তু এবার রাশিয়ার মধ্যস্থতায় সেই সমস্যাও মিটে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। লাদাখ সীমান্ত থেকে দুই দেশের সেনাই প্রত্যাহার করা হয়েছে। এবং ভারত ও চীনের দুই দেশের মধ্যেকার আভ্যন্তরীণ সম্পর্ককে স্বাভাবিক করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। যার ফলশ্রুতি দেখা গেল, সদ্য BRICS সম্মেলনে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে একই সুর নরেন্দ্র মোদি অর্থাৎ ভারত, সি জিনপিং অর্থাৎ চীন এবং ভ্লাদিমির পুতিন অর্থাৎ রাশিয়ার গলায়।
আর এই ত্রিশক্তির হাত ধরেই মূলত আত্মপ্রকাশ করেছে BRICS কারেন্সির।আর এই BRICS কারেন্সি যদি বাজারে সচল হয়ে যায়, এবং কাজ করা শুরু করে তাহলে অচিরেই পতন শুরু হবে মার্কিন ডলারের। বর্তমানে একটি দেশের আর্থিক পরিস্থিতি কতটা উন্নত তা যে বিষয়গুলির উপর ভিত্তি করে আলোচনা করা হয় তার মধ্যে একটা অন্যতম বিষয় হচ্ছে ফর এক্স রিজার্ভ এর পরিমাণ, যার মূল কারেন্সি হচ্ছে ডলার। এছাড়াও প্রত্যেকটা দেশকে অপরিচিত তেল আমদানি অথবা রপ্তানি করতে হয়। এই ক্ষেত্রেই মূলত ডলার ব্যবহারের পরিমাণ অনেকটাই বেশি।এই সিস্টেমটাকে পেট্রো ডলার মডেল বলা হয়। এছাড়াও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজ স্বার্থ রক্ষা করতে, এই ডলার কেন্দিক অর্থনীতিকে বারবার হাতিয়ার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মনে করুন কোন একটি বিষয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যদি কোন দেশ বা কোনো অর্থনৈতিক জোট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে চলে যায়, তখন দেখা গেছে আমেরিকা সেই দেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলার কেন্দ্রিক লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফলতো সেই দেশ অর্থনৈতিকভাবে চাপের সম্মুখীন হয়।
অপরদিকে বিশ্ব ব্যাংক থেকে যখন কোন উন্নয়নশীল দেশ ঋণ গ্রহণ করে, কম সুদে ঋণ গ্রহণ করবার জন্য তারা ডলারের সেই ঋণ গ্রহণ করে। কিন্তু মুশকিল হলো যখন ডলারের দাম বাড়ে, , তখন সেই দিনের পরিমাণ সেই দেশের পক্ষে পরিশোধ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কারণ সেই দেশের নিজস্ব কারেন্সি আর আমেরিকান কারেন্সি ডলারের পারস্পরিক বিনিময় মূল্য এক নয়। আর এই ডলারের দাম বৃদ্ধি পরোক্ষভাবে সেই দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। আর এই আর্থিক অচল অবস্থা কে কাটানোর জন্য বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের দেশ ভারত, চীন ও রাশিয়া বিকল্প একটি কারেন্সির সন্ধান করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হয়তো সেই সন্ধান শেষ হতে চলেছে BRICS কারেন্সির হাত ধরে। আর এমনটা যদি হয় তাহলে নিঃসন্দেহে চিন্তায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট।
সম্প্রতি বেশ কিছু দেশ নিজেদের অভ্যন্তরীণ মুদ্রার উপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক লেনদেন শুরু করেছে। এবার যদি এই বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে BRICS কারেন্সি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তাহলে তো বলতেই হয়, একরামের ওকে নেই সুগ্রীব দোসর। এবার আপনাদের দেখাবো এই ব্রিকষ কারেন্সিটা ঠিক কেমন ঠিক কেমন দেখতে।
আপনারা দেখতে পাচ্ছেন এই BRICS নোটের একদিকে রয়েছে ভারতের পতাকা এবং তার ওপরে রয়েছে তাজমহলের ছবি। এরপর রয়েছে চীনের পতাকা এবং রয়েছে ড্রাগনের ছবি। এরপর রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার পতাকা তার সঙ্গে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ভুটর-রেখার সৌধের শব্দের ছবি।তাঁর পর রয়েছে ব্রাজিলের পতাকা এবং তার সঙ্গে ক্রাইস্ট দ্য রিডিমারের ছবি।অবশেষে রাশিয়ার পতাকা এবং ক্রেমলিনের ছবি।
এবার আপনাদের দেখাবো BRICS নোটের ঠিক উল্টো পিঠের ছবিটা। উল্টোপিঠে রয়েছে মূলত BRICS দেশ গুলোর পতাকার ছবি। যেমন বাংলাদেশ, ইরান, ভেনেজুয়েলা, সৌদি আরব, আর্জেন্টিনা, জিম্বাবোয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, নাইজেরিয়া, ইউএই অর্থাৎ BRICS-এর সদস্য দেশগুলোর ছবি।
ভাবতে পাচ্ছেন, এই এতগুলো দেশ যদি একসাথে বলে যে আমরা আমাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ডলারে করবো না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমাদের নিজস্ব একটা কারেন্সি থাকবে, তাহলে তার পরিণতি কি হতে পারে? অর্থনৈতিকভাবে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনেকটাই স্বচ্ছন্দ বোধ করবে BRICS সদস্য রাষ্ট্রগুলি। অন্যদিকে চিন্তার বাজ পড়বে আমেরিকার কপালে।
তবে আপনাদের বলে রাখি এই BRICS নোট এটা চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত নয়। এই নোটের ডিজাইন পরিবর্তিত হতেই পারে। কিন্তু ব্রিকস সম্মেলন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটা বড় বার্তা, অসনি সংকেতও বলতে পারেন এই BRICS নোট।
উক্ত বিষয়ে আপনাদের কি মতামত অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। ভিডিওটা শেয়ার করে ছড়িয়ে দেবেন। ভারত চীন রাশিয়ার এই দ্বৈরথ আপনারা কি চোখে দেখছেন সেটাও কমেন্ট করে জানাবেন আর সাবস্ক্রাইব করবেন আমাদের চ্যানেল বিজনেস প্রাইম নিউজ। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি নয়, যে খবর আপনার জীবনকে অর্থবহ করে আমরা সেই খবর আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই আর তাই, চোখ থাকুক বিজনেস প্রাইম নিউজ এর পর্দায়। জীবন হোক অর্থবহ।