Market

কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ। একদিকে বিশ্ব বাজারে থাবা বসিয়েছে বৈশ্বিক মন্দা। পুঁজির অভাবে ধুঁকছে তাবড় তাবড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান। কার্যত চিঁড়েচ্যাপটা বিশ্ব অর্থনীতি। মূল্যবৃদ্ধিকে ঠেকনা দিতে সুদ বৃদ্ধিই যখন একমাত্র উপায়। তখন অন্যদিকে পোয়াবারো হচ্ছে জ্বালানিখাতের। কীভাবে? শুনুন তবে।
যে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে আজ বিশ্ব অর্থনীতির কঙ্কালসার চেহারাটা আমাদের কাছে স্পষ্ট। সেই রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি ভাঙিয়েই লাভের গুড়ে পকেট ভরছে সৌদি আরামকো, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের মত বড় বড় কোম্পানি। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দাম বাড়ছে জ্বালানির। আর জ্বালানি যখন প্রতিটা দেশের বেসিক নিড, তখন আমদানি ব্যয় যাই হোক না কেন, জ্বালানি কেনা তো আর বন্ধ করা যায় না। অতএব অগ্নিমূল্য জ্বালানি কিনতে বাধ্য হচ্ছে বিশ্বের সমস্ত দেশ। আর এই অর্থনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেও চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে সৌদি আরামকোর মুনাফার অঙ্ক পৌঁছেছে ৪ হাজার ২৪০ কোটি ডলারে। ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের মুনাফার অঙ্ক পৌঁছেছে ৮২০ কোটি মার্কিন ডলার। যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
বর্তমানে জ্বালানি কোম্পানিরগুলোর মুনাফার পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি এতটাই কঠিন যে, ব্রিটেন সহ বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশগুলতেও মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে। জ্বালানির এই ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্রিটেনের মূল্যস্ফীতি বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ মতো। কিন্তু এভাবে বেশি দিন চললে দুর্ভোগ ঠেকানো বড় দায় হয়ে দাঁড়াবে
2মন্দার বাজারেও পোয়াবারো ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামেরমন্দার বাজারেও পোয়াবারো ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের। তাই জ্বালানি কোম্পানিগুলির উপর উইন্ডফল ট্যাক্স আরোপ করেছে উন্নত দেশগুলো। দেশের ৮০ লাখ মানুষকে সহায়তা করতে ব্রিটেন সরকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করেছে। যার আর্থিক ভরপাই করবে এই উইন্ডফল ট্যাক্স থেকে আসা অর্থ। ব্রিটেন সরকার আগামী দুই বছরে এই ট্যাক্স থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার আয় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে সরকারি এই সিদ্ধান্তের বিরধিতা করছে সংশ্লিষ্ট জ্বালানি কোম্পানিগুলি। সৌদি আরামকো সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এই উইন্ডফল ট্যাক্স দিতে নারাজ। ওদিকে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামও তাদের ৮২০ কোটি ডলার মোট মুনাফার মাত্র ৮০ কোটি ডলার ট্যাক্স দেবে বলে জানিয়েছে। এখানেই প্রশ্ন তুলেছেন ব্রিটেনের জলবায়ুমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। এবিষয়ে তিনি তৎকালীন অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাককেই দায়ী করেছেন। যদিও বিপির মতো কোম্পানি কত কর দিচ্ছে বা ভবিষ্যতে কত বিনিয়োগ করবে বা শেয়ারহোল্ডারদের কত লভ্যাংশ দেবে, সে বিষয়ে একটা সমঝোতা করার পরামর্শ দিচ্ছেন শেয়ার বিশেষজ্ঞরা।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ