Daily
এমনিতে বাঙালির গোলাপের প্রতি আকর্ষণটা চিরকালের। জয় গোস্বামির ভাষায় বলতে গেলে, ‘সব দিন হয়না বাজার হলে হয় মাত্রাছাড়া/ বাড়িতে ফেরার পথে কিনে আনি গোলাপ চারা। রাত পোহালেই ভ্যালেন্টাইন ডে। যে দিনটায় প্রায় গোটা পৃথিবীই একটা বিন্দুতে এসে মেশে- গোলাপ। ভালবাসা আর শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়ে ভালবাসার মানুষের হাতে তুলে দেয় গোলাপ ফুল। দামটা এদিন শুধুই সংখ্যা মাত্র। তবে এ নিয়ে প্রেমিক প্রবরদের মধ্যে অভিমান থাকলেও আশকারা পেয়ে মাথাচারা দেয় গোলাপের দাম। আড় সেই বাহানায় এই দিন উপলক্ষ্যে বাড়তি লাভের আশা দেখেন ফুল চাষি থেকে ব্যবসায়ীরা।
ভ্যালেন্টাইন ডে-তে ফি বছর লাল গোলাপের চাহিদা থাকলেও এবছরে প্রেম নিবেদনে গোলাপের রং নীল। পছন্দের নিরিখে লাল-হলুদ গোলাপকে টেক্কা দিচ্ছে নীল আর সবুজ গোলাপ। এইবছরে যেন বিশেষ আকর্ষণের জায়গা দখল করে নিয়েছে এই নীল গোলাপ। সাদা গোলাপের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে রং মিশিয়ে নীল এবং সবুজ গোলাপ তৈরি করা হচ্ছে। প্রতি বছরই গোলাপের দাম এই এক সপ্তাহ জুড়ে আকশছোঁয়া থাকে। আড় এবছরও চাহিদা যেমন তুঙ্গে, তেমন দামও বেড়েছে অনেকটাই। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, শিলিগুড়ি বাজারে নীল এবং সবুজ গোলাপের দাম প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা প্রতি পিস। অন্যদিকে ডাচ গোলাপের দাম হয়েছে ২০ টাকা প্রতি পিস। নীল সবুজ গোলাপের পাশাপাশি বাজারে একইরকমভাবে রাজ করছে ডাচ রোজ। যদিও ব্যাঙ্গালর রোজ নামেই এর জনপ্রিয়তা বেশি। ভারতের নানা প্রান্তে যে গোলাপ রপ্তানি হয়, তা এখান থেকেই।
বাতাসে আর্দ্রতা কম। দূষণ বেশি। তবু এত ভালবাসার মরশুম। তাই গোলাপের চাহিদাও প্রচুর। যে গোলাপ ফুল চাষ করেন পাশকুঁড়া, কোলাঘাট, দেউলিয়া সহ আশেপাশের গ্রামের চাষিরা। তাই ভ্যালেন্টাইন ডে কে সামনে রেখে ডালায় ফুল সাজিয়ে দুটো বাড়তি পয়সা রোজগারের আশায় ফুলচাষিরা। গত দু-বছর করোনা আর লকডাউনের কারণে সেভাবে গোলাপ বিক্রি করতে পারেননি চাষি এবং ব্যবসায়ীরা। তবে করোনামুক্ত বর্তমান সময়ে শীত কাটিয়ে বসন্তের শুরুতে কিছুটা গরম পড়তেই বাগানের গোলাপের ফলন ভালো হয়। আর বিক্রিও হয় দেদার। তাই বাড়তি লাভের আশায় বুক বাঁধছেন চাষি থেকে ব্যবসায়ী প্রত্যেকেই।
অরূপ পোদ্দার
শিলিগুড়ি