Story
কৃষকের রত্ন যেমন তার জমির ফসল, তেমনই বাংলার কৃষক সমাজের রত্ন হচ্ছেন আলিপুরদুয়ারের প্রান্তিক কৃষক প্রাণেশ বিশ্বাস। ২০১৬ সালে তিনি কৃষিরত্ন সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। কারণ তিনি যে পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেছেন তা বাংলার কৃষকসমাজে নজির তৈরি করেছে।
গোবিন্দভোগ ধানের কথা তো আমরা সবাই জানি। কিন্তু কতজনের সঙ্গে পরিচয় আছে কেরালা সুন্দরী বা কালো চালের সঙ্গে যার বাহারি নাম ব্ল্যাক রাইস? আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম ব্লকের তেলিপাড়ার কৃষক প্রাণেশ বিশ্বাস কিন্তু এই ধান চাষ করেই সাফল্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন বাংলার কৃষিমহলে। তবে শুধু পুষ্টিগুণে ভরপুর ব্ল্যাক রাইস চাষ করেই যে তিনি আজ কৃষক সমাজে সমাদৃত তা কিন্তু নয়। রাসায়নিক বা কীটনাশকের ব্যবহার না করে এবং জৈব সার প্রয়োগ করেও যে জমি ভর্তি ধান চাষ করা সম্ভব সেটাও দেখিয়ে দিয়েছেন আলিপুরদুয়ারের প্রাণেশ।
আজ প্রাণেশ বাবু যে জমিতে ধান চাষ করছেন ৫০ বছর আগে সেই জমি কিনেছিলেন তাঁর বাবা। সেইসময় রাসায়নিক এবং কীটনাশকের প্রয়োগ হত ভালোরকম। প্রাণেশ বাবু মনে করেন অত্যধিক রাসায়নিক এবং কীটনাশক ব্যবহারের জন্যই প্রাণেশ বাবুর দাদা অসুস্থ। তাই নিজে হাল ধরার পরেই তুলে দিলেন এসবের ব্যবহার।
রাসায়নিক সারের বদলে জৈব সারকেই যে তিনি গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন তার প্রমাণ পাওয়া গেল প্রাণেশ বাবুর বাড়িতে পৌঁছতেই। বিজনেস প্রাইমকে তিনি দেখালেন কিভাবে সার তৈরি করা হচ্ছে। বড় বড় ড্রামে গো মূত্র, পচা ভাত এবং অন্যান্য জিনিস মিশিয়ে যেমন তৈরি করা হচ্ছে সার তেমনই লালি গুড়, কাঁঠাল এবং মাছের সংমিশ্রণে তৈরি হচ্ছে ভিটামিন। যা স্প্রে করে ছড়িয়ে দেওয়া হয় তাঁর জমির ফসলে। আর এই গোটা কর্মকান্ডে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে কৃষিদপ্তর।
কালো ধান বা ব্ল্যাক রাইস চালের ভাত স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত অতিমারী সময়ে। কতটা- সেই বার্তাও দিলেন রাজীব বাবু।
আজ প্রাণেশ বাবু বাংলার কৃষক মহলে যথেষ্ট নজির তৈরি করেছেন। জৈব সার প্রয়োগ করার জন্য যেমন কীটনাশকের ভয় নেই তেমনি জমির উর্বরতাও বাড়ছে অনেকটা।
কৃষি দপ্তরও জৈব পদ্ধতিতে চাষ করার জন্য অন্যান্য কৃষকদের উৎসাহী করছে। প্রাণেশ বিশ্বাসের উদাহরণ টেনে দেখিয়ে দিচ্ছেন ফসলের বৃদ্ধি। এই পদ্ধতিতে চাষ করে লাভ যেমন হচ্ছে তেমনি শরীরের কোন ক্ষতিও হচ্ছে না। তাই কৃষি দপ্তরও আশাবাদী অচিরেই জৈব পদ্ধতিতে চাষের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
অভিজিৎ চক্রবর্তী, আলিপুরদুয়ার