Story
জীবনে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে প্রয়োজন হয় একজন গেমচেঞ্জারের। তাই আটপৌরে সাধারণ ঘরে নিম্নবিত্ত যৌথ পরিবারে বেশিদূর পড়াশোনায় না এগোলেও এক মৎস্যচাষির পরামর্শ গেমচেঞ্জার হিসেবে নেমে এলো বিশ্বজিৎ দাসের জীবনে। রাতারাতি হয়ে উঠলেন জিরো থেকে হিরো। তাও আবার বাঙালির অতি পরিচিত চিংড়ি চাষ। গলদা-বাগদা নয় একেবারে বাউন্ডারি পেরিয়ে সম্পূর্ণ বিদেশি ভেনামি চিংড়ি চাষে রাজ্যে তৈরি করলেন নজির।
ঘটি-বাঙালের যুদ্ধে খাবারের তালিকায় নিশ্চিন্তে ঢুকে পড়ে চিংড়ি। জলের পোকা বলে সম্বোধন করা হলেও আমবাঙালির প্রিয় খাদ্য তালিকায় চিংড়ি থাকে ওপরের দিকেই। আজ সেই চিংড়িই পাড়ি দিচ্ছে সটান বিদেশে। এর নাম ভেনামি চিংড়ি। যা চাষ করে কোটিপতি সুন্দরবনের বিশ্বজিৎ দাস।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাসনাবাদ ব্লকের চাপাতলা গ্রামের যুবক বিশ্বজিৎ। পৈতৃক জমিতে চাষবাস শুরু করলেও জল এবং মাটি লবণাক্ত হওয়ার কারণে সেভাবে লাভের মুখ তিনি দেখতে পাচ্ছিলেন না। এরপরেই এক মৎস্যচাষির পরামর্শে ২০১১ সাল থেকে শুরু করেন বাগদা চিংড়ির চাষ। আর ২০১৩ সাল থেকে ভেনামি চিংড়ি চাষ। তারপর এই ভেনামি চিংড়িই বিশ্বজিৎবাবুর জীবনে গেমচেঞ্জার হয়ে দাঁড়ায়।
আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমুদ্রের নোনা জল শোধন করে বিশ্বজিৎবাবু প্রায় ৯০ বিঘে জলাশয়ে চাষ করছেন এই ভেনামি চিংড়ির। আধুনিক প্রযুক্তিতে কিভাবে চাষ করে সফল হলেন সুন্দরবনের বিশ্বজিৎ?
উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে পুকুরে ছাড়া হয় ভিন রাজ্য থেকে আনা কৃত্রিমভাবে তৈরি ভেনামি চিংড়ির মীন। আর তারপর…
এরপর শুরু হয় মাছ ধরার কাজ। কিন্তু এই মাছ ধরারও রয়েছে বিশেষ প্রক্রিয়া।
আর যারা এই চিংড়ি মাছ ধরছেন, তাঁরা কী বলছেন সেটাই আমরা শুনে নেব।
আজ বিশ্বজিৎ বাবুর চাষ করা ভেনামি চিংড়ি পাড়ি দেয় বিদেশে। থাইল্যান্ড থেকে লন্ডন, বিদেশের বাজারেই ভেনামির চাহিদা। আর আমরা কথা বলে নেব চিংড়ি রপ্তানিকারক সংস্থার সদস্যর সঙ্গে, যারা এখান থেকে চিংড়ি কিনে রপ্তানি করছেন বিদেশে।
মাছ বিক্রি করার আগে প্রয়োজন পড়ে আধুনিক প্রযুক্তির। যা ব্যবহার করার কারণে ভালো লাভ যেমন করা যায়, তেমনই প্রোডাকশনের খরচাও কমে অনেকটা।
চিংড়ি চাষ তো অনেকেই করেন। কিন্তু বিশ্বজিৎ বাবুর এই পদ্ধতিতে ভেনামি চিংড়ি চাষ আগ্রহ তৈরি করেছে অন্যান্য কৃষকদের মধ্যেও। যেমন হিঙ্গলগঞ্জ ব্লক থেকে দেখতে এসেছেন বাপ্পাদিত্য পন্ডিত।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চের তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে ৯৭ হাজার মেট্রিকটন চিংড়ি রপ্তানি করে পশ্চিমবঙ্গ। যার মূল্য দাঁড়িয়েছিল আনুমানিক ৪ হাজার কোটি টাকা। যশের কারণে মৎস্য চাষে কিছুটা ধাক্কা লাগলেও আবার আশার আলো দেখাচ্ছে ভেনামি চাষ। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের সেরা মৎস্যচাষির পুরস্কার ব্যবসার উড়ানে জুগিয়েছে প্রয়োজনীয় জ্বালানি। আর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভেনামি চিংড়ি চাষে নজির তৈরি গড়লেন রাজ্যের মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাসনাবাদ ব্লকের চাপাতলা গ্রামের বিশ্বজিৎ দাস।
দেবস্মিতা মন্ডল, উত্তর ২৪ পরগনা