Story

অ্যামাজন। পৃথিবীর ফুসফুস। যেখানে রহস্য থাকে বাঁকে বাঁকে চিরস্থায়ী। কিন্তু সবসময় কি ইচ্ছে থাকলেই আর অ্যামাজন ভ্রমণ সম্ভব? আসুন। আজ বিজনেস প্রাইম নিউজের সঙ্গে ঘুরে আসা যাক এমনই একটি জায়গায় যেখানে প্রবেশ করলেই মনে হবে অ্যামাজনের সেই পরিবেশ যেন কোথাও গিয়ে মিলিয়ে দিয়েছে ব্রাজিল এবং বাংলাকে।
আলিপুরদুয়ার। উত্তরবঙ্গের এই জেলা শহর থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে অবস্থিত সিকিয়াঝোরা। পর্যটকপ্রেমীদের কাছে যা বেশি পরিচিত ডুয়ার্সের অ্যামাজন নামে। নৌকো করে নদীপথ চিড়ে যখন জঙ্গলের মধ্যে প্রবেশ করবেন, মনে হবে সভ্য জগত আপনার থেকে অনেক অনেক দূরে। বাঘ হাতির আস্তানায়। চারদিক নিস্তব্ধ। ঝিঝি পোকার ডাক তো রয়েছেই। সঙ্গে রয়েছে অজানা, অচেনা বহু পোকামাকড়ের ডাক। নাকে এসে ধাক্কা মারবে তীব্র বুনো গন্ধ। এক গা ছমছমে পরিবেশের মধ্যে দিয়ে আপনি সাক্ষী থাকবেন এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের বুক চিরে চলে যাওয়া অসমগামী ৩১সি জাতীয় সড়ক ধরে রাস্তার দুপাশে সবুজ কার্পেটের মতো সুন্দর চা বাগান দেখতে দেখতে আপনি চলে আসবেন এই জায়গায়।
বাংলার ট্যুরিজমের মানচিত্রে সিকিয়াঝোরা তেমন একটা খ্যাতি না পেলেও যারা জানেন তাঁদের কাছে কিন্তু সিকিয়াঝোরা ঘুরে আসাটা কোনদিক থেকেই অ্যাডভেঞ্চারের চেয়ে কম নয়। বাঘ, হাতি, ভাল্লুকের দেখা যেমন পেতে পারেন, তেমনি ঝোড়ার জলে ঝুঁকে পড়া গাছের ডালে খুঁজলে হয়তো পেয়ে যেতে পারেন পিট ভাইপার, পাইথন। তাই নৌকোবিহার যে এককথায় রোমহর্ষক সেটা অস্বীকারের উপায় নেই। পর্যটকদের নৌকোয় নিয়ে যাওয়ার সময় তাই সতর্ক থাকতে হয় মাঝিদের।
এই টুরিস্ট স্পটটা পরিচালন করেন মহিলারাই। স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং ডুয়ার্স সংঘের যৌথ উদ্যোগে সিকিয়াঝোরা পরিচালিত হয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে বছরভর পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। তবে ভরা বর্ষায় পর্যটকদের পা পড়ে কম। ৩৬৫ দিন সিকিয়াঝোরা খোলা থাকে পর্যটকদের জন্য।
মাথাপিছু এখানে খরচ পড়ে মাত্র ৬০ টাকা। পিকনিক স্পটে পৌঁছে নৌকার টিকিট কেটে চলে আসুন ঝোড়ার ধারে। আসার সময় চাইলে এখানে মহিলা পরিচালিত খাবার ক্যান্টিনে খাবারের অর্ডারটা দিয়ে আসতে পারেন। আপাতত এখানে রয়েছে মোট চারটি ক্যান্টিন।
যে সকল পর্যটক সিকিয়াঝোরায় প্রথমবারের মত পা রাখছেন, তাঁরা ঠিক যতটা রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকবেন, তেমনি যারা বারবার ঘুরে গিয়েছেন, তাঁরাও মেতে থাকবেন বুনো পরিবেশে। আবারো ফিরে আসবেন এখানে। অ্যামাজনের অভিজ্ঞতা নিতে।
সকালের প্রথমদিকে বা দিনের শেষ নৌকা বিহার করলে পশু পাখি দেখার সম্ভাবনা থাকে সবচেয়ে বেশি। চাইলে দেখতে পেতেও পারেন অসপ্রে, ক্রেস্টেড সারপেন্ট ঈগল, সহ নানা প্রকারের শিকারী পাখি। একদিকে পাখিদের স্বর্গরাজ্য এই সিকিয়াঝোরা। অন্যদিকে বক্সার শ্বাপদ সংকুল গহন অরণ্য। সবমিলিয়ে সিকিয়াঝোরা অভিযান যে নিঃসন্দেহে পর্যটকদের কাছে ব্যাপক অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় হতে চলেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
অভিজিৎ চক্রবর্তী
আলিপুরদুয়ার