Story
কেন্দ্রের তুঘলকি সিদ্ধান্তে এবার সংকটে পড়েনছে স্বর্ণশিল্পীরা। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে স্বর্ণশিল্পীদের সংকট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আগামী সোমবার বাধ্য হয়ে রাজ্যের স্বর্ণশিল্পী ব্যবসায়ী সমিতিগুলি ডাক দিয়েছেন ধর্মঘটের। এই ধর্মঘটকে সমর্থন করছে স্বর্ণশিল্পী ব্যবসায়ী সমিতির সর্বভারতীয় সংগঠনও।
কেন্দ্রীয় সরকার ২৬ জুন থেকে ২ গ্রামের বেশি প্রতিটি গয়নায় হলমার্ক বাধ্যতামূলক করেছে। শুধু হলমার্কই নয়, হলমার্কের সঙ্গে চালু করেছেন এইচইউআইডি নম্বর। আর স্বর্ণব্যবসায়ীদের বিপত্তি ঠিক এই জায়গাটাতেই। ইতিমধ্যেই রাজ্যের স্বর্ণব্যবসায়ীরা তাঁদের দোকানে গয়নার উপর হলমার্ক চালু করলেও চালু করে উঠতে পারেননি এইচইউআইডি নম্বর। অথচ সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিন থেকেই বেশিরভাগ রাজ্যের দোকানগুলির বিরুদ্ধে উঠতে পারে হলমার্ক আইন ভাঙার অভিযোগ। কি করে এই নম্বর ছোট বা মাঝারি মাপের দোকানগুলি তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা করতে পারবে তা নিয়েই এখন চিন্তায় রয়েছেন বাংলার স্বর্ণশিল্পী সমাজ।
একে দীর্ঘমেয়াদী লকডাউন। তার উপর জিএসটি। এখন আবার নতুন করে যুক্ত হল এইচইউআইডি নম্বর। এই নতুন নম্বরের পদ্ধতিগত চক্কোরে ও হলমার্কের নতুন ফরমানে বাংলার বহু ছোট, মাঝারি স্বর্ণব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বঙ্গীয় স্বর্ণশিল্পী সমিতি।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কয়েক হাজারেরও বেশি সোনার দোকান। আর বারাসাতে রয়েছে বেশ কয়েকশো ছোটখাটো সোনার গয়না তৈরির কারখানা। এই নতুন ফরমানে স্বর্ণশিল্পীদের ভবিষ্যতে যে যথেষ্ট অন্ধকার নেমে আসছে তার ছবি ধরা পড়ল আমাদের ক্যামেরায়।
হরিতলার সোনাপট্টিতে একের পর এক দোকানের শাটার আজ নামানো। যদিও সোমবার বন্ধ পালন করবেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। প্রতিবাদ জানাবেন কেন্দ্রের আইনের বিরুদ্ধে। দু’একটা ছোটখাটো কারখানা খোলা থাকলেও নতুন নিয়মের গেরোয় দোকানের কাজে যে যথেষ্ট ভাটা রয়েছে তা ধরা পড়ল আমাদেরই ক্যামেরায়। জিজ্ঞেস করতেই ব্যবসায়ীরা উগড়ে দিলেন নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে তাঁদের ক্ষোভ।
বারাসাতের কারখানায় কাজ করতে আসেন গোকুল তাঁতি। ব্যবসার যা হাল, তাতে কারখানায় কোনদিন কাজ থাকে আর কোনদিন থাকেনা। কাজ না থাকলে সংসার চালাবেন কি করে? এই ভাবনাতেই ধর্মঘটে সামিল হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইনিও।
আসুন দেখে নেওয়া যাক নতুন হলমার্ক আইনের বিরুদ্ধে কেন ধর্মঘটে যাচ্ছেন রাজ্যের স্বর্ণশিল্পীরা।
• আগে একটি গয়নার উপর হলমার্ক হত। এখন গয়নার ছ’টা স্যাম্পেল পাঠাতে হচ্ছে। যা অধিকাংশ ছোট, মাঝারি দোকানদারদের পক্ষে সম্ভব নয়।
• হলমার্ক কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ যেভাবে ফিনিশড গয়না থেকে স্যাম্পেল তোলা হচ্ছে তাতে গয়নার ডিজাইন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যা শেষ পর্যন্ত ক্রেতারা নিতে অস্বীকার করছেন।
• আগে হলমার্ক পেতে সময় লাগত ঘণ্টা চারেক। এখন হলমার্ক পেতে সময় লাগছে সাত দিনেরও বেশি।
• হলমার্ক হবার পর বিআইএস পোর্টালে গয়নার ওজনের সঙ্গে বাস্তবের গয়নার ওজনের ফারাক হয়ে যাচ্ছে। তৈরি হচ্ছে ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের মধ্যে অবিশ্বাসের সম্পর্ক।
• ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলে ব্যবসায়ীদের এইচইউআইডিতে নথিভুক্ত করতে হবে না। অথচ দু’গ্রামের বেশি গয়নায় হলমার্ক বাধ্যতামূলক। যা ব্যবসায়ীদের মধ্যে চূড়ান্ত বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
অবিলম্বে সরকারকে দেশের স্বর্ণব্যবসায়ীদের স্বার্থে এই নতুন আইনের সরলীকরণ করতে হবে। বাংলার স্বর্ণব্যবসা এমনই একটা ব্যবসা যার সাথে জড়িয়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন জীবিকার প্রশ্ন।
একের পর এক ছোটখাটো কারখানা যেভাবে বসে গিয়েছে তাতে স্বর্ণশিল্পের ভবিষ্যৎ কোনদিকে গড়াবে সেটা নির্ভর করছে বেশিরভাগটাই কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর।
বিক্রম লাহা, উত্তর ২৪ পরগনা