Story

পশ্চিমবঙ্গে নাকি শিল্প নেই। কর্মসংস্থানের হাহাকার পড়ে এই রাজ্যেই। নেই শিল্পের তকমাটা বেশ ভালোভাবেই বাংলার সঙ্গে বসে গিয়েছে। কিন্তু বন্ধুরা। বদলেছে সময়। বাংলায় শিল্প নেই- এই কথাটা জোর গলায় মনে হয় আর বলা যাবে না। কারণ বাংলায় বেশ মসৃণ গতিতেই ঘুরছে ব্যবসা বাণিজ্যের চাকা। আর যে কারণে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থানের জোয়ারও আসতে চলেছে।
পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯.৮ কোটিতে। সংখ্যাটা নেহাত কম নয়। কিন্তু সেই অনুযায়ী মানুষের চাকরি কোথায়? আছে, আছে। বলা যেতে পারে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলির টেলিপ্যাথির যোগাযোগ আছে এই বাংলার সঙ্গে। তার জন্যই তো বিপুল বিনিয়োগ হতে চলেছে আমাদের রাজ্যে। তার মধ্যে অন্যতম, লজিস্টিক হাব। হ্যাঁ। অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট বা সুইগির মত একাধিক বিশ্বের প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানগুলো এখন লজিস্টিক হাবের জন্য বেছে নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গকেই। তার জন্য ক্রমশই বাড়ছে বিনিয়োগের অঙ্ক। কিন্তু বাংলা কেন? তার প্রথম কারণ ডিমান্ড। মানে পশ্চিমবঙ্গে যত মানুষ বসবাস করেন, তাদের চাহিদা প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে। আর সেই অনুযায়ী প্রয়োজন পড়ছে জোগানের। একইসঙ্গে বাংলা এমন একটি রাজ্য, যে বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভুটানের মত তিনটি দেশের সঙ্গে বর্ডার শেয়ার করে। অন্যদিকে বিহার, উড়িষ্যা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে ব্যবসায়িক জোট সবচেয়ে ভালো হয় যদি বাংলাকে তার প্রাণকেন্দ্র করা হয়।
জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালের আগে তেমন একটা লজিস্টিক সেন্টারের রমরমা ছিল না। কিন্তু বদলেছে সময়। বর্তমানে আমাদের সরকার লজিস্টিক সেন্টারের জন্য বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা নেয়। সেই চেষ্টা কিছুটা সাফল্য পেয়েছে। ২০২০ সালের পর থেকে বাংলায় হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে শুধুমাত্র লজিস্টিক সেন্টার তৈরির জন্য। সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত এই সেন্টার তৈরিতে বিনিয়োগের অঙ্ক এসেছে ২০ বিলিয়ন ডলার। আগামীতে হয়ত সেই অঙ্কটা পৌঁছে যেতে পারে ৫০ বিলিয়ন ডলারে। আর যত এই লজিস্টিক সেন্টার তৈরি হবে, ততই বাড়বে কর্মসংস্থান। সংখ্যাটা প্রায় ৩০ হাজারের মতন।
কারখানায় জিনিস ম্যানুফ্যাকচারিং হওয়ার পর কোম্পানিগুলো তাদের উৎপাদিত প্রোডাক্টগুলিকে রাখে এই লজিস্টিক সেন্টারগুলোতেই। ফলে সাপ্লাই চেনের জন্য এই সেন্টার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকেই প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে যায় মার্কেট সহ ক্রেতাদের কাছে। তাই লজিস্টিক সেন্টার তৈরি হওয়া মানে বুঝতে হবে একদিকে বাড়ছে ব্যাপক চাহিদা। অন্যদিকে ব্যবসা বৃদ্ধির সম্ভাবনাও দেখা যায় প্রচুর। এবার সেই ছবিটাই জ্বলজ্বল করছে আমাদের বাংলার ক্ষেত্রে। কলকাতা ছাড়া শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, মালদা, আসানসোল, দুর্গাপুর, তাজপুর, ডানকুনির মত বেশ কয়েকটি জায়গাকে বেছে নেওয়া হয়েছে লজিস্টিক হাবের জন্য। ফলে রাজ্যে সার্বিক কর্মসংস্থানেরও যে একটা ব্যাপক চাহিদা তৈরি হবে, সেটা নির্দ্বিধায় বলাই যায়। আর ঠিক এভাবেই, বাংলা নিঃশব্দে এগিয়ে চলেছে শিল্প সম্ভাবনা তৈরির দিকে। ভারতের অন্যতম প্রধান লজিস্টিক সেন্টার হয়ে উঠছে বাংলা।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ