Daily
শীতকাল মানেই বাজারে বাহারি সবজির মেলা। যার মধ্যে সিমের কদর থাকে একেবারে শীর্ষে। বাজারে গেলেই ব্যাগ ভর্তি করে নিয়ে আসছেন সিম, কারণ এখন দামটা যে কম। তো বাংলার বাজার জুড়ে এই যে সিমের আধিপত্য, সেই সিম কোথায় চাষ হয় জানেন? নদীয়া জেলার হরিণঘাটার কাস্টডাঙা। রাজ্যে সিম উৎপাদনে সেরা। শীতের মরশুমে এই কাস্টডাঙা এলাকার প্রচুর মানুষ ব্যস্ত থাকেন এই সিম চাষ নিয়ে। তা এবছর সিম চাষের কী খবর? কেমন আছেন সিমচাষের সঙ্গে যুক্ত কৃষক, দিনমজুর এবং ব্যবসায়ীরা, চলুন জেনে নেওয়া যাক।
এখন সিমের সিজেন। মাঠ ভর্তি সবুজ গাছ আর বেগুনি ফুলের ছড়াছড়ি। বছরের অনান্য সময়ে এখানকার আশেপাশের গ্রামের লোকজন অনান্য কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এই সময়টায় তারা সিম চাষ করা বলুন কিংবা সিম তোলা এই সব কাজের সঙ্গেই যুক্ত থাকেন। প্রায় ২০০০ বিঘে জমিতে চাষ হয় সিমের। ফলে গোটা শীতকাটাই আশেপাশের লোকের রুজিরুটির জোগাড় করে এই মরশুমি ফসল।
সিম চাষকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দিনমজুরদের দিন ভালো কাটলেও অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন এলাকার চাষিভাইরা। উৎপাদনে কোন ঘাটতি নেই। অথচ লাভের গুড় পিঁপড়েয় খাওয়ার দশা চাষিভাইদের। বাজারে সারের দাম হাতের নাগালে বেরিয়ে যাওয়ায় চাষের খরচ ঘরে তোলাই দুঃসাধ্য হয়ে উঠছে তাদের কাছে। সময়ের সঙ্গে উৎপাদন বাড়তে থাকলেও দাম থেকে যায় নিচের দিকেই।
এলাকার পাকা রাস্তার দুপাশের বিস্তৃত জমিতে চাষ হয় সিম। আর সেগুলো মজুত করা থাকে সেই পাকা রাস্তার দুপাশে থাকা আড়তগুলোতে। স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ীরা এই আড়তগুলো থেকে সিম কিনে নিয়ে গিয়ে চাকদা, মদনপুর, বিরহী, হাড়োয়া সহ আরও অন্যান্য জায়গায় বিক্রি করেন। কিন্তু সিমের দাম কমায় চাষিভাইদের মত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে তাদেরও।
রাজ্যর মধ্যে সবচেয়ে বড় সিম উৎপাদনের এলাকা হলেও এখানকার চাষি থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা কিন্তু চরম ক্ষতির মুখেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন। যেহেতু এখানকার চাষিরা এই শীতের মরশুমে মূলত সিম চাষের উপরেই নির্ভর করেন, তাই লাভের আশায় বিভিন্ন প্রজাতির সিম চাষ করছেন তারা। কিন্তু তাতেও যে বিশেষ কোন উপকার হচ্ছে, তেমনটা কিন্তু নয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অনেকেই বোরো ধান চাষের দিকে ঝুঁকছেন। তবে তারপরেও চাষিভাইদের দিন ফেরে কি না সেটাই দেখার।
সুব্রত সরকার
নদীয়া