Story
বাঙালি হেঁসেলে একটা সময় তারই রাজত্ব ছিল। হওয়ারই কথা! তখন আর লা-ওপালার ডিনার সেট কথায় বলুন? আর তাছাড়া এই বাঙালির মধ্যে তখন পাশ্চাত্যের কালচার রপ্ত করতেই হবে- এই বিষয়টা ছিল না। কাজেই তৎকালীন বাঙালি হেঁসেলে সর্বেসর্বা এই কাঁসার বাসন।
আজ তার বয়স হয়েছে। তাই নবাবী খেতাব পাওয়া শতাব্দী প্রাচীন এই কাঁসার বাসন এখন স্টিল আর মেলামাইনের সঙ্গে দৌড়ে পারে না। চুপ করে বসে থাকে বন্ধ বাক্সের ভিতরে। রোজগারের আশায় পেশা বদলান কাঁসা শিল্পীরা।
বাঁকুড়া জেলার কেঞ্জাকুরা। বাংলার কাঁসা গ্রাম বললেও খুব ভুল হবে না। যে গ্রামের ঘরে ঘরে কাঁসা পেটানর শব্দ। শুনে মনে হতে পারে, এখনও এভাবে কাঁসার বাসনের কাজ হয়? হয় বৈকি! এই গ্রামের ৮০ শতাংশ মানুষই কাঁসা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। কাঁসার কারখানার মালিকদের নিয়েও একটা বেশ আঁটসাঁট সংগঠন আছে। সেই সংগঠন আবার বেশ কিছু নিয়ম -কানুনও রয়েছে।
আগুনের কাছে থেকে প্রচণ্ড শ্রমের বিনিময়ে কাওকে এত সামান্য পারিশ্রমিক দিলে অসন্তোষ থাকারই কথা। আছেও। কিন্তু মহাজনের উপর চাপ দিয়েও সুরাহা মেলেনা। তারা কমিশন বারান না। কারণ…
সুতরাং, এই শতাব্দী প্রাচীন কাঁসা শিল্পে নতুন প্রজন্ম আসতে নারাজ। আর শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মানুষ না থাকলে, শিল্পই বা টিকবে কীভাবে? বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে কাঁসা শিল্পের সংকট নিয়ে কথা হলেও, সরকারী তৎপরতা নজরে আসেনি। সরকার উদাসীনই থেকেছেন, বলে জানালেন শিল্পীদের একাংশ। কাজেই আগামীদিনে কাঁসা শিল্পের ভবিষ্যৎ যে অন্ধকার, সেটা নিশ্চিত। কিন্তু যে সমস্ত মানুষ এর ফলে কাজ হারাবেন, তার দায় কে নেবে? প্রশ্ন থাকছেই।
কাঞ্চন দাস
বিজনেস প্রাইম নিউজ