Market

বাঙালি নারীর সঙ্গে শাড়ি শব্দটি যেন অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িত। শাড়ির প্রতি মেয়েদের দুর্বলতা চিরকালীন। আর তাঁতের শাড়ী হল বাংলার ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে বজায় রাখতে পুজোর আগেই বাংলার তাঁতীদের অসামান্য শিল্প নিয়ে কলকাতার সল্টলেকের করুণাময়ী প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে বাংলার তাঁতের হাট।
সামনেই পুজো। আর পুজোতে ট্র্যাডিশনাল লুক বাঙ্গালিদের অন্যতম পছন্দ। তাই বাঙ্গালির মহা উৎসবের আগে শাড়ী প্রেমীরা ভিড় করছেন মেলা প্রাঙ্গণে। আর বাঙালি নারীর মন আকর্ষণ করতে তাঁতের শাড়ীর বিশাল পসরা সাজিয়ে বসেছেন শিল্পীরা। বিভিন্ন রকম শাড়ীর সম্ভার নিয়ে হাট একেবারে জমজমাট। কি নেই এখানে? রয়েছে তাঁতে বোনা রুমাল থেকে লাখ টাকার শাড়ী, রয়েছে বালুচরি, ধনেখালি, জামদানি থেকে শুরু করে টাঙ্গাইল,মসলিন,শান্তিপুরি, বেগমপুরি। শাড়ী ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জেলার তাঁত শিল্পীদের কাছ থেকে শাড়ী ছাড়াও বিভিন্ন রকম বস্ত্র পোশাক ও নিয়ে এসেছেন। তন্তুবায় সমবায় সমিতি, খাদি, হস্ত তান্ত মহল্লা, তন্তুজ সব মিলিয়ে যেন ঝলমল করছে স্টলগুলো।
বেশ কিছু বছর ধরেই এখানে এই তাঁতের হাটের আয়োজন করা হচ্ছে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মেলাতে রয়েছে সিসিটিভি র ব্যবস্থা। ছোট বড় মিলিয়ে আড়াইশোরও বেশি স্টল রয়েছে এখানে। নদিয়া থেকে মুর্শিদাবাদ, হুগলী থেকে বর্ধমান বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিল্পীরা তাদের সম্ভার নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন এই মেলায়। এ যেন শহর ও গ্রামের মিলনক্ষেত্র। এখানে একদিকে যেমন তাঁত শিল্পীরা তাদের শিল্পের প্রদর্শন করতে পারেন অন্যদিকে শহরের মানুষও পেয়ে যান বাংলার তাঁতের শাড়ীর বিশাল সম্ভার। ক্ষুদ্র ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বস্ত্র দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় শিল্পী ও ক্রেতা উভয় মহলই খুশি। পুজোর আগে এই মেলার আয়োজন করতে পারায় বাংলার তাঁত শিল্প যে বেশ লাভবান হবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ