Story
সময়টা অবিভক্ত বাংলা। জাঁকিয়ে শীত পড়েছে মুর্শিদাবাদে। নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ তো বেজায় চিন্তিত। প্রাসাদে থাকা লেপ, কম্বল বা শাল, কোনটাই ঠিক থিতু করতে পারছে না নবাবকে। এমন শীতে কাবু হবেন নবাব? কাভি নেহি। মসলিন বা সিল্কের শাড়ির আস্তরণে পুরে দেওয়া হল কার্পাস তুলো। চলল দক্ষ হাতের সেলাই। জন্ম হল বালাপোষের। বালাপোষের এই সাজে এবং কাজে নবাব এবার বেজায় খুশি। সেই থেকে বাংলার কুটির শিল্প জগতে বালাপোষের খ্যাতি একেবারে উপরের দিকে।
দিন গিয়েছে। বদলেছে মানুষের চাহিদা। নামিদামি কম্বলের ভিড়ে, আজ ফিকে হয়েছে বালাপোষের চাহিদা। দারিদ্র্যতায় ছেয়েছে বালাপোষ শিল্পীদের সংসার। ভারতের মত গ্রীষ্মপ্রধান দেশে যেখানে শীত হল দু’মাসের অতিথি, সেখানে কেবল বালাপোষ তৈরি করেই বাকি বছরটা কেমনভাবে কাটান বাংলার বালাপোষ শিল্পিরা? চলুন ঘুরে আসি বাংলার বালাপোষ গ্রামে। জেনে নেই বালাপোষ শিল্পিদের হাঁড়ির খবর।
নদীয়া জেলার হরিণঘাটার কাস্ট ডাঙার সাহেব বাড়ি অঞ্চলের পশ্চিম পাড়া। লোকমুখে পরিচিত বালাপোষ গ্রাম নামেই। গত পনেরো বছর ধরে এখানকার প্রায় দেড়শ পরিবারের পেট চলে এই বালাপোষ সেলাই করেই। গ্রামের পুরুষরা দূরে গিয়ে অর্ডার সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রাম ঘুরে নিয়ে আসেন বাহারি শাড়ি। আর গ্রামের মহিলারা নিপুণ হাতে সেই সমস্ত শাড়ি নিয়ে তৈরি করেন বালাপোষ। মাত্র ৫০-৬০ টাকা মজুরির বিনিময়ে কাজ করেন বালাপোষ শিল্পীরা। তাতে কি আর সংসার চলে? তবু পেটের জ্বালা যে বড় জ্বালা। তাই সরকারি সাহায্যের দিকে মুখিয়ে রয়েছেন বালাপোষ শিল্পীরা।
একটা বালাপোষ বিক্রি হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। কিন্তু সেই বালাপোষ তৈরির পেছনে শিল্পীর ঠিক কতটা পরিশ্রম লেগে থাকে, জানেন? শুনুন শিল্পী রাখিয়া খাতুনের মুখ থেকে।
নবাবী আমলের সেই বালাপোষ শিল্প আজ সংকটের দোরগোড়ায়। বালাপোষ শিল্পীরা আজ চরম আর্থিক ক্ষতির শিকার। বছরের এই দু’তিন মাস বালাপোষের অর্ডার এলেও মেলে না পর্যাপ্ত মজুরি। আর বাকি দিনগুলো কাটে পাটের বিনুনি কিংবা প্যাকেটে মাটি ভরার কাজ করে। তাতে রোজগার আরও কম। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া শিল্পীদের তাই আজ শুধু একটাই চাওয়া। সরকারি সাহায্য।
সুব্রত সরকার
নদীয়া