Story

অ্যাপল। ইলেকট্রনিকসের দুনিয়ায় গোটা বিশ্বে যার চাহিদা সবসময় থাকে ওপরে । অ্যাপলের বিভিন্ন গ্যাজেটস হাতে থাকলে মানুষের হাবেভাবে, চলাফেরায় একটা পরিবর্তন আসে। সত্যি বলতে, এই সময়ে অ্যাপল নিঃসন্দেহে স্টেটাসের একটা সিম্বল হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাকে কোনভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। ভারত তো বটেই। গোটা বিশ্বে অ্যাপল ছড়িয়ে পড়েছে তার নিজের কদর বাড়িয়ে। আর যে কারণে পৃথিবীর অন্যতম পছন্দের ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পেরেছে অ্যাপল।
অতিমারির ধাক্কা যখন গোটা বিশ্ববাসীর মনে ভয় ধরিয়েছিল তখনও অ্যাপলের চাহিদায় পড়েনি ভাটা। বরং সংস্থাটি নিজের ব্র্যান্ডভ্যালুকে উত্তরোত্তর বাড়িয়ে তুলেছে। একটি তথ্য বলছে, ২০২১ সালে অ্যাপলের ব্র্যান্ড ভ্যালু পৌঁছে গিয়েছে ২ ট্রিলিয়ন ডলারে। এমনকি ২০২০ সালে যেখানে সংস্থাটি রেভিনিউ জেনারেট করেছিল ১৩৭.৭ বিলিয়ন ডলার মতন। সেখানে ২০২১ সালে অ্যাপলের রেভিনিউ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯১.৯ বিলিয়ন ডলারে। যার ৫২ শতাংশ অ্যাপল আয় করেছে শুধুমাত্র আইফোন বিক্রি করেই। সূত্রের খবর, ২০২০ সালে অ্যাপল ২৩০ মিলিয়ন আইফোন, ৭১ মিলিয়ন আইপ্যাড আর ২০ মিলিয়ন ম্যাক এবং ম্যাকবুক তারা বিক্রি করে। কিন্তু, আমরা অ্যাপলের ইতিহাস বা অ্যাপলের সার্বিক ব্যবসা নিয়ে কথা বলব না। আমরা বলব, রাশিয়াতে অ্যাপলের ব্যবসা নিয়ে।
আমরা সবাই জানি, ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর থেকেই আমেরিকা সহ ইউরোপ কোনঠাসা করে দিয়েছে রাশিয়াকে। পৃথিবীর প্রথম সারির বেশ কিছু সংস্থাও রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসায় ইতি টেনেছে। বাদ নেই অ্যাপলও। হ্যাঁ। রাশিয়াতে কিন্তু অ্যাপলের জনপ্রিয়তা কম নয়। একটা তথ্য বলছে, ২০২০ সালে শুধু রাশিয়া থেকেই অ্যাপল আয় করেছিল ২.৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু কি জানেন, এই রেভিনিউটা অ্যাপলের সামগ্রিক রেভিনিউয়ের মাত্র ০.৯ শতাংশ। তবে যত যাই হোক। অঙ্কের বিচারে সেটা একেবারেই কম নয়। তবে বর্তমানে অ্যাপল রাশিয়ায় তাদের সব রকমের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ভেঙ্গে দেওয়ার কারণে মনে করা হচ্ছে, আইফোন থেকে রেভিনিউ আর্ন করার নিরিখে অ্যাপলকে প্রতিদিন ক্ষতির অঙ্ক গুনতে হতে পারে ৩ মিলিয়ন ডলার মতন। বছর শেষে ক্ষতির অঙ্কটা পৌঁছতে পারে ১.১৪ বিলিয়ন ডলারে।
রাশিয়ার সঙ্গে অ্যাপলের ব্যবসায়িক সম্পর্কে ভাঙন ধরেছে সাময়িক। ক্ষতির অঙ্ক বিচার করেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে যেভাবে সংস্থাটি নেমেছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে, আদৌ কি এই ক্ষতি নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য সংস্থাটি ভাববে? তবে যত যাই হোক, নিজের ব্র্যান্ড ভ্যালুকে আরও একটু বাড়িয়ে দিতে এই পদক্ষেপটা যে অনুঘটকের কাজ করেছে, তাকে বেশ ইতিবাচক নজরেই দেখছে অ্যাপল।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ