Market

পুজো আসছে কিন্তু হাসি নেই জুটমিল শ্রমিকদের মুখে। উৎসবের মুখে তারা যেন বিপদের আঁচ পাচ্ছেন।হুগলীতে জুটমিল আছে মোট ১০টি। রিষড়ার ওয়েলিংটন বাদ দিয়ে অন্যান্য জুটমিলগুলো খোলা আছে। গোন্দলপাড়া অনেকদিন বন্ধ থাকার পর কিছুদিন হল খুলেছে। আসলে এই সব মিলগুলোতে সপ্তাহে সাত দিন দৈনিক তিনটি শিফটে কাজ হত। বাঁশবেড়িয়ার গ্যাঞ্জেস, চন্দননগরের গোন্দলপাড়া, ভদ্রেশ্বরের ভিক্টোরিয়া, নর্থ শ্যামনগর, চাঁপদানির ডালহৌসি, অ্যাঙ্গাস, নর্থব্রুক, শ্রীরামপুরের ইন্ডিয়া, রিষড়ার হেস্টিংস জুটমিলে সম্প্রতি সাতের বদলে সপ্তাহে ছ’দিন কাজ হচ্ছে। কোথাও কোথাও আবার শিফটের সংখ্যাও কমানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতির জন্য মিল কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করছেন শ্রমিকরা। যদিও মিল কর্তারা দোষ চাপাচ্ছেন কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর। তাদের অভিযোগ হল কেন্দ্রের তরফে প্রাথমিকভাবে প্রতি মাসে জুটমিলগুলো থেকে ৪ লক্ষ বেল (প্রতি বেলে ৫০০ বস্তা) চটের বস্তা নেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে ঠিক তার উল্টো। প্রতি মাসে রাজ্য থেকে আড়াই লক্ষ বেলের বেশি বস্তা নেওয়া হচ্ছে না। আর সেই কারণেই মিলগুলো বিপদে পড়েছে এবং উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে।
এই পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্র বা মিল মালিক যেই দায়ী হোক না কেন তার ফল ভোগ করতে হবে কিন্তু কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদেরই। এই প্রসঙ্গে জনৈক শ্রমিক জানান যে প্রত্যেকবার পুজো এলেই মালিকরা নানান অজুহাত দেখাতে থাকেন। শ্রমিকরা মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়ে প্রতিবাদ করে না। কারণ মিল বন্ধ হয়ে গেলে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়বে। এই প্রসঙ্গে সিটুর জেলা সম্পাদক তীর্থঙ্কর রায় জানিয়েছেন যে, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজ্যের জুট মিল মালিক, সরকারি প্রতিনিধি এবং ২১ টি শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে শ্রমিকদের দাবি দাওয়া নিয়ে একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয় এবং সেই বৈঠকে অবিলম্বে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি, কাজের সময় না কমানো, কম পয়সায় অস্থায়ী শ্রমিক না রাখা ইত্যাদি বিষয়ে দাবি রাখা হয়। এই দাবি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় তা দেখতে এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
বিজনেস প্রাইম নিউজ
জীবন হোক অর্থবহ