Story

শীতের সব্জি চাষ হবে গরমে। আবার বর্ষাকালেও চাষে বাধা হতে পারবে না বৃষ্টি। এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেও সমস্যা হবে না ফসলের। পলিহাউজের কেরামতি দেখে তাই আগ্রহ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি হাসি চওড়া হচ্ছে কৃষকবন্ধুদের। কারণ সারা বছর ধরেই অসময়ের সব্জি এখন চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। আর চাষের ফসল স্থানীয় বাজারে ভালো দামেই বিক্রি করে লাভ করছেন কৃষকবন্ধুরা।
গ্রামের ক্ষুদ্রচাষিদের আর্থিক শ্রীবৃদ্ধির জন্য একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্যের জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়ন দফতর। ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের উদ্যোগে একশোভাগ অনুদানে তৈরি হল অত্যাধুনিক ৩টে পলি হাউজ। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার আমডাঙ্গা ব্লকের দুর্লভপুর গ্রামে। জমিতে লোহার পাইপের খুঁটির উপরে ও চারিদিকে ২০০ মাইক্রনের পলিথিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই পলি হাউজকে। যেখানে সব কিছুই থাকে নিয়ন্ত্রিত। ভেতরের তাপমাত্রা থেকে কৃত্রিম পরিবেশ। এমনকি সেচ ব্যবস্থাও চলে নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে। চারা গাছকে সঠিক পরিচর্যা দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে ডিপ ইরিগেশন তথা বিন্দু সেচ পদ্ধতি। যেখানে চারাগাছের গোরায় ফোঁটা ফোঁটা জল দিয়ে উন্নতি হচ্ছে গাছের স্বাস্থ্যের। অ্যাক্সিলারেটেড ডেভেলপমেন্ট অফ মাইনর ইরিগেশন বা আদমি প্রকল্পের মাধ্যমে চাষাবাদ হচ্ছে ভালোভাবে। পলিহাউজে চাষ করে আর্থিক উন্নতি হচ্ছে চাষিদের।
আদমি প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন দুর্লভপুর গ্রামের কৃষকরা। আর এলাকার কৃষকদের কিভাবে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করানো যায়। একইসঙ্গে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় এই পলি হাউজ চাষে। সেদিকে ২৪ ঘণ্টা নজর রেখেছে কৃষি দফতর।
তবে পলি হাউজের আসল উদ্দ্যেশ্য কি? আর এই পলি হাউজে এলাকার পুরুষ ও মহিলারা একত্রিত হয়ে চাষাবাদ করে ভালো মুনাফা ঘরে তোলা সম্ভব হবে। স্বাভাবিকভাবেই চাষিরা আগ্রহী হয়ে আর এগিয়ে আসবেন এই পলি হাউজে চাষাবাদ করার জন্য।
পলি হাউজের সুফল কৃষকরা পেতে শুরু করে দিয়েছেন। ফলে এখন লক্ষ্য গ্রামে গ্রামে গিয়ে মিটিং করে কৃষকদের কাছে তুলে ধরা পলি হাউজের গুরুত্ব। ভবিষ্যতে যাতে কৃষকবন্ধুরা পলি হাউজের মাধ্যমে কৃষিকাজ চালিয়ে তাঁরা তাঁদের আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটাতে পারেন।
ইতিমধ্যেই পলি হাউসের মধ্যে সব্জীর চারা বসিয়ে ফেলেছেন উৎসাহী কৃষকরা। আগামী দিনে কৃষকরা যাতে আরও বেশি করে সব্জি চাষে আগ্রহ দেখান এবং আগামীদিনে পলি হাউসের মাধ্যমে কৃষকরা ভালো লাভের অঙ্ক ঘরে তুলতে পারবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।
দেবস্মিতা মণ্ডল
উত্তর ২৪ পরগনা