Story
কথায় আছে, ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু’। বাজার কিংবা ই-কমার্স সাইটের লোভনীয় অফারের ফাঁদে পা দিয়ে নামীদামী ফ্যাশন ব্র্যান্ডের জামাকাপড় কেনেন সিংহভাগ মানুষ। গালভরা হাসি নিয়ে সেই জামাটা পড়ছেন, ভালো কথা। কিন্তু জানেন কি এখানেই ঘটছে বিপর্যয়? কেন? আপনার নামীদামী ফ্যাশন ব্র্যান্ডের জন্য পৃথিবীর ফুসফুস, অর্থাৎ অ্যামাজন জঙ্গল আজ বড়সড় ঝুঁকির মুখে। আর ফলস্বরূপ, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে আমাদের পৃথিবী।
সম্প্রতি অ্যামাজন জঙ্গল নিয়ে একটি গবেষণাপত্রে প্রকাশিত হয়েছে হাড়হিম করা তথ্য। বিশ্বের প্রথম সারির ফ্যাশন কোম্পানিগুলো অ্যামাজন জঙ্গলের নিধনের সঙ্গে যুক্ত। অ্যাডিডাস থেকে শুরু করে নাইক, ১০০ টিরও বেশি টপ ফ্যাশন কোম্পানির নাম রয়েছে এই তালিকায়। কিভাবে? তালিকায় যুক্ত এইসমস্ত কোম্পানিগুলো চামড়া আমদানি করে সেই সমস্ত লোকের থেকে যারা সরাসরি বননিধনের সঙ্গে যুক্ত। মজার কথা হচ্ছে, এই সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে যখন ফ্যাশন শিল্পের মহল, পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত সম্মেলনে পরিবেশবান্ধব কিছু কাজ করার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। তারা বলেছিল, ১০০% পুনর্নবিকরণ শক্তিসম্পন্ন এবং পরিবেশবান্ধব কাঁচামাল তারা সরবরাহ করবে। কিন্তু বাস্তব বলছে উল্টো কথা।
রিপোর্ট বলছে, বেশি পরিমাণ মাংস আর চামড়ার চাহিদায় বাড়ছে গবাদি পশুপালন। আর যার জেরে ২০২০ অগাস্ট থেকে ২০২১ এর জুলাই অবধি পৃথিবীর বৃহত্তম কার্বন খেকো অ্যামাজন জঙ্গলের ১৩,২২৫ কিলোমিটার এলাকার মৃত্যু ঘটেছে। ২০০৬ থেকে এখনো অবধি এই এত বড়ো এলাকার অরণ্য উৎখাত, ইতিহাস তৈরি করেছে। ১০০ টিরও বেশি পোশাক সংস্থা সরাসরি তাদের সাথে যুক্ত যারা গবাদি পশুপালনের জন্য অ্যামাজন জঙ্গল নিধনের সঙ্গে যুক্ত। আর এর বেশিরভাগ সংস্থাই আবার বিখ্যাত ব্রাজিলিয়ান চামড়া রপ্তানি সংস্থা জেবিএস-এর সাথে যুক্ত। বননিধনের মত গুরুতর অন্যায়ে যার ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। শুনলে আঁতকে উঠতে পারেন। প্রখ্যাত এই চামড়া রপ্তানি সংস্থা আসলে ২০১৯ সাল থেকে শুরু করে ৪২.৫৩৮ হেক্টর জঙ্গল নিঃশেষ করে ফেলেছে। যেটা কার্যত বেআইনি।
বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ ফ্যাশন ব্র্যান্ড পরিবেশবান্ধব পোশাক শিল্পের প্রতিজ্ঞা করেছিল। যেখানে বননিধনের কোন গল্প নেই। কিন্তু গবেষণা বলছে, অঙ্গীকারবদ্ধ হলেও, বাস্তবে তারা এসব মানছেনই না। ফলস্বরূপ উধাও হয়ে যাছে সুবিস্তৃত অ্যামাজন জঙ্গলের একাধিক এলাকা। যার প্রভাব পড়ছে জলবায়ু পরিবর্তনে। কাজেই পরোক্ষভাবে হলেও, এর জন্য কিন্তু আমি, আপনি, আমরা প্রত্যেকেই দায়ী। আর অবিলম্বে এর ব্যবস্থা না নিলে কি সাঙ্ঘাতিক দিন অপেক্ষা করছে, তার কিছুটা হয়তো আন্দাজ করতে পারছি আমরা।
ব্যুরো রিপোর্ট